ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় লজ্জার কথা স্বীকার করলেন রাজা চার্লস! দাসপ্রথা নিয়ে বাকিংহাম প্যালেসের চাঞ্চল্যকর বার্তা!

ক্যারিবিয়ান সফরের শেষ পর্যায়ে এসে ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক অতীত এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক দাসপ্রথার মতো অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে একেবারে সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা দিতে চলেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস (King Charles III)। অ্যান্টিগুয়ায় আয়োজিত কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাসপ্রথার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত এবং ঐতিহাসিক অন্যায় নিয়ে সম্পূর্ণ “অকপট সততা” এবং “গভীর অনুশোচনা” প্রকাশ করবেন বলে নিশ্চিত করেছে বাকিংহাম প্যালেস। দাস ব্যবসার পেছনে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং তার ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিতর্ক যখন আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন মোড় নিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজার এই অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
অতীতের মুখোমুখি হতে পিছপা নন রাজা, তবে কি ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে?
বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায়গুলোর মুখোমুখি হতে রাজা চার্লস কোনো রাখঢাক করবেন না। বর্তমান সফরে পরিবেশ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি দাসত্ব ও তৎকালীন প্রতিরোধের ইতিহাসকে গভীরভাবে অনুধাবন করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গায়ানার ঐতিহাসিক দাস বিদ্রোহের স্থান পরিদর্শন করেছেন চার্লস, যেখানে শত শত ক্রীতদাসকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
তবে সরাসরি ‘ক্ষমা চাওয়ার’ প্রসঙ্গে রাজপ্রাসাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের সাফ কথা— ক্ষমা চাওয়া বা আর্থিক নীতি নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্রিটিশ সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত, কোনোভাবেই রাজপরিবারের নয়। রাজা চার্লস সেখানে কেবল এক সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ব্রিটেনের অন্দরেও চরম রাজনৈতিক উত্তাপ ও ক্ষতিপূরণের দাবি
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ব্রিটিশ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ইঙ্গিত: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি দাসপ্রথার বর্বরতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের কঠোর অবস্থানের তুলনায় এক বিশাল পরিবর্তন। তবে তিনি এখনও সরাসরি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেননি।
ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচার: অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন সাফ জানিয়েছেন যে, শত বছর কেটে গেলেও দাসত্বের দুঃসহ স্মৃতি মুছে যায়নি এবং এর জন্য সুনির্দিষ্ট ‘ক্ষতিপূরণমূলক ন্যায়বিচার’ অত্যন্ত জরুরি।
কনজারভেটিভ পার্টির আপত্তি: অন্যদিকে, ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে এই ক্ষমা চাওয়ার আলোচনাকে মূল সমস্যাগুলো থেকে চোখ ঘোরানোর বাহানা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং অতীতের গ্লানি ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সওয়াল তোলা হয়েছে।
ক্যান্সার জয় করে ক্যারিবিয়ানের বৃষ্টিতে ভিজে রাজা চার্লস
দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং পরিবারের নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও এই বয়সে ক্যারিবিয়ানের তীব্র আর্দ্র আবহাওয়ায় একের পর এক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন রাজা চার্লস। এমনকি রবিবার অ্যান্টিগুয়ার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হঠাৎ নামা মুষলধারে বৃষ্টিতে তাঁর ভিজে যাওয়ার দৃশ্যও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ৫৬টি দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দাসত্বের অতীত যন্ত্রণা স্বীকার করে রাজা চার্লস নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেন কি না, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা কমনওয়েলথ বিশ্ব।