পুরভোটের আগেই বেহালাবাসীর জন্য বিরাট ধামাকা! ২০ কোটির মেগা প্রজেক্টে স্থায়ী মুক্তি জলযন্ত্রণা থেকে?

আসন্ন কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক অলিন্দে। প্রচারের পারদ চড়ানোর মাঝে বেহালা, ঠাকুরপুকুর ও সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এলো কলকাতা পুরসভা। বহু বছরের পুরানো জমা জলের নরকযন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে দ্রুত শুরু হতে চলেছে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা ও পাইপলাইন বসানোর কাজ।
কলকাতা কর্পোরেশনের নিকাশি বিভাগের এই মেগা প্রজেক্টের ফলে বেহালা ও ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন এলাকার ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০ কোটি টাকার বাজেট: কোন কোন এলাকা পাবে নতুন রূপ?
রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচে এই ভূগর্ভস্থ নিকাশি ড্রেনেজ পাইপলাইনের কাজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। কলকাতা পরিবেশ উন্নয়ন লগ্নি প্রকল্পের মাধ্যমে আগেই মেইন রোডের পাইপ পাতার কাজ শেষ হয়েছিল। এবার গলিপথ ও শাখা রাস্তাগুলির ড্রেনেজ লাইনকে মেইন লাইনের সাথে যুক্ত করা হবে।
প্রধান উপকৃত এলাকাগুলি:
বেহালা
ঠাকুরপুকুর
বকরা রোড
বরিশা
ডায়মন্ড হারবার রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল
হালকা বৃষ্টিতেই জলমগ্ন দশা! মুক্তি মিলবে আগামী বর্ষাতেই
এতদিন ধরে এই অঞ্চলগুলোতে বৈজ্ঞানিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অভাব ছিল। অধিকাংশ জায়গায় হয় নিকাশি ব্যবস্থা ছিলই না, আর নয়তো তা ছিল খোলা ড্রেন। সামান্য বৃষ্টিতেই জমা জলে স্তব্ধ হয়ে যেত জনজীবন। আর ভারী বৃষ্টি বা সাইক্লোন-দুর্যোগ হলে দিনের পর দিন জল জমে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেত স্বাভাবিক স্তরের কাজকর্ম। সুয়ারেজ লাইনের কোনো সুবিধা না থাকায় চরম সমস্যায় পড়তে হতো সাধারণ মানুষকে।
পুর আধিকারিকদের বার্তা ও আধুনিক ড্রেনেজ প্ল্যান
কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “বহু বছর আগে পুরসভার আওতাভুক্ত হলেও ভৌগোলিক ও পরিকাঠামোগত নানা জটিলতায় এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সঠিক আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বৈজ্ঞানিক সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট থেকে যেমন মানুষ বঞ্চিত ছিলেন, তেমনই অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে দীর্ঘক্ষণ মানুষকে কষ্ট পেতে হতো।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচে এই ৯ কিলোমিটার জুড়ে ভূগর্ভস্থ সুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইন বসে গেলে আগামী বরষার আগেই বেহালাবাসীর জীবনের চেনা দুর্ভোগ অতীত হবে। ভারী বৃষ্টি হলেও সামান্য কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্রুত জল নেমে যাবে।”
পুরভোটের ঠিক মুখেই পুরসভার এই তড়িৎ পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলযন্ত্রণার স্থায়ী সমাধানের আলো দেখছেন বেহালাবাসী।