“মোদীজি কোথাও যাবেন না”— এই স্লোগানের অর্থ চরম ভয় ও অহংকার! বিস্ফোরক কটাক্ষ সিজিপি নেতার

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নতুন রাজনৈতিক স্লোগান এবং প্রচারকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিজেপির এই স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে আসরে নেমেছেন ককোরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস। তাঁর সাফ দাবি, ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’—বিজেপির এই বহুল প্রচারিত স্লোগানটি আদতে কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এর মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে চরম রাজনৈতিক অহংকার, গভীর ভয় এবং যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবল মানসিক উদ্বেগ। নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে গিয়ে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানির একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টও শেয়ার করেছেন তিনি।

ঠিক কী বলেছেন সিজিপি নেতা সৌরভ দাস?

সম্প্রতি স্মৃতি ইরানি তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই ছবিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা মিলেছিল তাঁর। ছবিটির ঠিক পেছনে থাকা একটি পোস্টারে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল— ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’।

সেই ছবিটিকে হাতিয়ার করেই বিজেপির বিরুদ্ধে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছেন CJP নেতা সৌরভ দাস। স্মৃতি ইরানির পোস্টটি ভাগ করে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’—কোনো রাজনীতিকের নিজের সম্পর্কে করা সবচেয়ে বড় অহংকারের প্রকাশ হতে পারে এই স্লোগান। দেশের সাধারণ মানুষ কখনওই এমন দাম্ভিক মনোভাব পছন্দ করেন না। তাঁর মতে, এই স্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে চরম হতাশা এবং প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি হারানোর গভীর আতঙ্ক।

কোথা থেকে এল এই আলোচিত স্লোগান?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই স্লোগানের জন্ম মূলত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বৈরথ থেকে। গত অক্টোবর মাসে বিহারের পাটনায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর সেই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

যদিও পরবর্তীতে কংগ্রেসের তরফে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবুও বসে থাকেনি গেরুয়া শিবির। বিরোধীদের ওই আক্রমণের মোড় ঘোরাতে এবং মোদীর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পাল্টা প্রচারে নামে বিজেপি। ‘মোদীজি কোথাও যাবেন না’—এই নতুন স্লোগানকে সামনে রেখে গুজরাত সহ একাধিক রাজ্যের সভা ও মিছিলে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রচার শুরু হয়। এবার সেই প্রচারকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করল CJP।

ইন্ডি জোটের সমাবেশ ও সিজিপি-র অবস্থান

উল্লেখ্য, গত রবিবার দিল্লিতে বিরোধী জোট INDIA-র একটি বড়সড় মেগা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুরুতে এই কর্মসূচিকে নীতিগতভাবে সমর্থন জানালেও CJP নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তারা সরাসরি ওই সমাবেশে অংশ নেবে না। দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ জানিয়েছিলেন, দেশজুড়ে ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে বা যারাই আন্দোলন গড়ে তুলবে, নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তাদের পাশে থাকবে তাঁর দল।

এর আগে অভিজিৎ দীপ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে বিরোধী সমাবেশের প্রতি তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনের সময় মমতা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেফতারির মতো পরিস্থিতিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান অভিজিৎ।

পালটা আসরে বিজেপিও

অন্যদিকে, বিরোধীদের যাবতীয় আক্রমণ ও স্লোগানকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপিও। দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ এই কেন্দ্রীয় স্লোগানকে সামনে রেখে একাধিক রাজ্যে মেগা সভা ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বিভিন্ন কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও তেলঙ্গানায় একটি বড় পদযাত্রা করার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই নতুন স্লোগানকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *