“তবে কি উৎসব বন্ধ করে দেবে দেশের মানুষ?” লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মাঝে সিএনজির দর বাড়ায় অগ্নিশর্মা ঠাকরে শিবির!

উৎসবের মরশুমে আমজনতার পকেটে ফের চরম কোপ! কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই এক লাফে সিএনজি (CNG) ও বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম বাড়াল কেন্দ্র। আর কেন্দ্র সরকারের এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরেই ২ নভেম্বর থেকে সুর চড়িয়ে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠী। খরা ও লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করতে থাকা সাধারণ নাগরিকেদের জন্য কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে একটি “নিষ্ঠুর দিওয়ালির উপহার” বলে অভিহিত করেছে উদ্ধব শিবির।

দলের অফিসিয়াল মুখপত্র ‘সামনা’-র (Saamana) একটি তীব্র সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ঠাকরে গোষ্ঠী সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন সরকার দেশের সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষকে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

“সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর সঞ্চয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হলো!”

সম্পাদকীয়তে সমগ্র মহারাষ্ট্র জুড়ে সাধারণ নাগরিক এবং কৃষকদের চরম অর্থনৈতিক কষ্টের চিত্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে:

“সমগ্র মহারাষ্ট্র বর্তমানে তীব্র খরার কবলে পড়েছে। কৃষকদের ক্ষেত সম্পূর্ণ ফসলশূন্য, আর সাধারণ মানুষের হাতে সংসারের খরচ চালানোর মতো কোনো টাকা নেই। এই দিওয়ালিতে নিজেদের সন্তানদের জীবনে সামান্য একটু আনন্দ ও হাসি আনার আশায় দিনআনি করে বেঁচে থাকা মানুষগুলি তাদের জমানো সামান্য সঞ্চয়টুকুও জমাচ্ছিল। কিন্তু, কেন্দ্র সরকারের সিএনজি ও বাণিজ্যিক এলপিজি-র একতরফা মূল্যবৃদ্ধি তাদের সেই শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।”

প্রশাসনের নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সম্পাদকীয়তে সোজা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “ক্ষমতাসীনরা কি তবে চান যে এই দেশের সাধারণ মানুষ এ বছর দিওয়ালি উদযাপনই না করুক?”

এমএমআর অঞ্চলে সিএনজির দামে ছ’মাসে ৬ নম্বর কোপ!

সম্পাদকীয়তে সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অর্থনৈতিক বোঝা সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে।

সামনার তথ্য অনুযায়ী:

  • মুম্বাই মেট্রোপলিটন অঞ্চল (MMR): সিএনজির (CNG) দাম প্রতি কেজিতে এক ধাক্কায় আরও ১ টাকা বাড়ানো হয়েছে। চিন্তার বিষয় হলো, বিগত মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বাড়ল সিএনজির দাম।

  • বাণিজ্যিক এলপিজি (Commercial LPG): বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ১০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাদ্য ব্যবসায়।

উৎসবের ঠিক মুখটিতে দাঁড়িয়ে গ্যাসের দামের এই আকাশছোঁয়া উর্ধ্বগতি নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতিতে। সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে চলেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সমস্ত স্তরের নাগরিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *