কালীপুজো থেকে দেব দীপাবলি! দীপাবলির আলোয় ভাসতে দেশের এই ৫ শহরে ছুটছেন পর্যটকেরা!

দীপাবলি মানেই তো আলোর রোশনাই, মাটির প্রদীপের মিষ্টি আভা, রঙিন রঙ্গোলি আর মুখরোচক মিষ্টির মেলা। দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও ভারতের কয়েকটি শহর রয়েছে, যেখানে দীপাবলির রূপ একেবারেই অনন্য ও আলাদা। সেখানে উদযাপন কেবল প্রদীপ বা আতশবাজিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, তার পেছনে জড়িয়ে রয়েছে যুগ যুগ ধরে চলে আসা সুগভীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা। সেই মেগা উদযাপন স্বচক্ষে দেখতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসেন। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ভারতের সেই পাঁচ বিখ্যাত শহরকে—
১. কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ): লক্ষ্মীপুজো নয়, শক্তি আরাধনার মহোৎসব
ভারতের অন্যান্য প্রান্তে দীপাবলির রাতে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী ও বিঘ্নহর্তা গণেশের পুজো করা হলেও, তিলোত্তমা কলকাতায় ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দীপাবলির রজনী পালিত হয় মহাশক্তি মা কালীর আরাধনার মাধ্যমে। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে পথঘাট, আর পাড়ায় পাড়ায় থিম ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে তৈরি সুদৃশ্য মণ্ডপগুলিতে মেতে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ।
২. অযোধ্যা (উত্তর প্রদেশ): দীপোৎসবে বিশ্বরেকর্ডের আলো
ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মভূমি অযোধ্যায় রামলালার ঘরে ফেরার এই দিনটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এক রূপকথার পরিবেশ। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া অযোধ্যার ‘দীপোৎসব’ আজ বিশ্ববিখ্যাত। সরযূ নদীর ঘাটে প্রতি বছর এক সাথে লক্ষ লক্ষ মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন গিনেস বিশ্বরেকর্ড গড়া এখানকার বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
৩. বারাণসী (উত্তর প্রদেশ): গঙ্গা আরতি ও দেব দীপাবলির দৈব অভিজ্ঞতা
বেনারস বা বারাণসীর দীপাবলি উদযাপনে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক আবহ। সন্ধ্যা নামতেই গঙ্গার ঘাটগুলোতে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার প্রদীপ। সঙ্গে মহা গঙ্গা আরতির ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনি পুরো পরিবেশকে ভক্তিময় করে তোলে। এছাড়া দীপাবলির ১৫ দিন পর অনুষ্ঠিত বারাণসীর ঐতিহাসিক ‘দেব দীপাবলি’ দেখতে বিশ্বের কোণা কোণা থেকে পর্যটকেরা ভিড় জমায়।
৪. জয়পুর (রাজস্থান): নববধূর সাজে সেজে ওঠে ‘পিঙ্ক সিটি’
রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী গোলাপি শহর জয়পুর দীপাবলির আলোয় যেন এক নতুন রূপ নেয়। হাওড়া মহল থেকে শুরু করে জোহরি বাজার— আলো ঝলমলে সাজসজ্জায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে চারপাশ। বিশেষ করে রাতের বেলায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নাহারগড় দুর্গ থেকে আলোকিত পুরো জয়পুর শহরকে দেখার অনুভূতি এককথায় স্বর্গীয়।
৫. অমৃতসর (পঞ্জাব): ‘বন্দী ছাড় দিবস’ ও স্বর্ণমন্দিরের সোনালী রূপ
পঞ্জাবের অমৃতসরে দীপাবলি উদযাপনের পেছনে রয়েছে এক বিরাট ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য। এই বিশেষ দিনে শিখ ধর্মাবলম্বীরা পালন করেন ‘বন্দী ছাড় দিবস’। ইতিহাস অনুযায়ী, এই দিনেই শিখ সম্প্রদায়ের ষষ্ঠ গুরু, শ্রী গুরু হরগোবিন্দ সাহিব জি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের বন্দিদশা থেকে ৫২ জন হিন্দু রাজাকে মুক্ত করে অমৃতসরে ফিরে এসেছিলেন। এই আনন্দে গোটা স্বর্ণমন্দিরকে (Golden Temple) আলো ও প্রদীপে ঠিক যেন এক নতুন বধূর মতো সাজিয়ে তোলা হয়।