১ দিনেই ১৫০০ গাড়ি ফেরত, ৬৮ লাখের চালান! দিল্লির সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হতেই শোরগোল!

শীতের শুরুতেই বিষাক্ত ধোঁয়াশা ও আশঙ্কাজনক বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে দিল্লি প্রশাসন। ১ নভেম্বর থেকে রাজধানীতে কার্যকর করা হয়েছে কঠোর ‘উইনটার অ্যাকশন প্ল্যান’। আর এই অভিযানের প্রথম দিনেই নিয়মভঙ্গকারীদের ওপর নেমে এসেছে কড়া প্রশাসনিক নির্দেশ। তল্লাশি চালিয়ে দিল্লি সীমান্ত থেকে ১,৫০০-র বেশি গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক দিনেই আদায় করা হয়েছে মোট ৬৮.৪ লক্ষ টাকা জরিমানা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিনভর নজরদারি চালিয়ে এই মেগা জরিমানা আদায় করেছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহণ দপ্তর।

কোথায় কতটা জরিমানা? একনজরে পরিসংখ্যান
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৮.৪ লক্ষ টাকার জরিমানার হিসাবটি নিম্নরূপ:

দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র (PUCC) না থাকা: ৫৬.৬ লক্ষ টাকা (মোট ৫৬৬টি চালান)।

সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন: ২.০ লক্ষ টাকা।

নির্মাণ ও ভাঙন-সংক্রান্ত ধূলিদূষণ: ৯.৮ লক্ষ টাকা।

সীমান্তেই ইউ-টার্ন! ঢুকতে দেওয়া হলো না ১,৫৩৯টি গাড়ি
দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত ‘প্রি-বিএস-৬’ (Pre-BS-VI) জ্বালানির গাড়ি প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়িভাবে আরোপ করতে ১৪,৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে প্রায় ১০.৩১% গাড়িকে অর্থাৎ ১,৫৩৯টি গাড়িকে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয়।

ফেরত পাঠানো যানবাহনের মধ্যে রয়েছে:

১৪০টি হালকা চারচাকা গাড়ি (LMV)

৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক গাড়ি (LCV)

৯৫টি ভারী পণ্যবাহী গাড়ি (HGV/MGV)

৩৪টি বাস এবং ৭৮৯টি দুই ও তিন চাকার গাড়ি।

তবে সিএনজি (CNG), বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) এবং জরুরি পরিষেবার কাজে যুক্ত প্রায় ৭৪০টি যাচাইকৃত গাড়িকে নির্বিঘ্নে দিল্লিতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়।

ধূলিদূষণ ও নির্মাণস্থলে কড়া নজরদারি
বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা কমানোর অংশ হিসেবে শহরের প্রায় ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন আধিকারিকেরা। এর মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করায় ৩২টি নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে জরিমানা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান, বিষাক্ত দূষণ প্রতিরোধে সীমান্তে যানবাহনের প্রবেশ, পিইউসিসি পরীক্ষা এবং ধূলিদূষণের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। তিনি সব নাগরিককে বৈধ দূষণ শংসাপত্র সাথে রাখার আহ্বান জানিয়ে যৌথভাবে দিল্লির পরিবেশ রক্ষার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে পর্যায়ক্রমে একাধিক বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। যার মধ্যে যানবাহনের সীমা নির্ধারণ, পার্কিং ফি বৃদ্ধি, নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *