দীপাবলির আগেই বাম্পার ধামাকা! এক ধাক্কায় ৬৩% হলো ডিএ, ১৬ লক্ষ সরকারি কর্মীর অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বাড়তি টাকা

আলোর উৎসব দীপাবলির ঠিক মুখেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য এল এক বিরাট আনন্দের খবর। উৎসবের মরশুমকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলতে মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) বৃদ্ধির বড় ঘোষণা করল সরকার। সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উচ্ছ্বসিত কর্মচারীরা।

তামিলনাড়ু সরকারের বড় চমক

ডিএ বৃদ্ধির এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্য ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার তাদের কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির পর তামিলনাড়ু সরকারও পিছিয়ে থাকেনি। রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের ডিএ এতদিন ৬০ শতাংশ ছিল, যা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৬৩ শতাংশ করা হলো। বর্ধিত এই ৩ শতাংশ ডিএ তামিলনাড়ু সরকারের অধীনস্থ તમામ কর্মচারী এবং শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সরকারি কোষাগার থেকে খরচ ১,৮৫৮ কোটি, উপকৃত ১৬ লক্ষ পরিবার

রাজ্য সরকারের এই ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে তামিলনাড়ুর প্রায় ১৬ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং পারিবারিক পেনশনভোগী সরাসরি লাভবান হতে চলেছেন। বিপুল পরিমাণ এই বকেয়া ও বর্ধিত ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত ১,৮৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্মচারীরা যাতে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আনন্দের সাথে দীপাবলি উদযাপন করতে পারেন, সেই কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ উপহার দেওয়া হলো।

কী অবস্থায় রয়েছেন বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মীরা?

এদিকে উৎসবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে পিছিয়ে ছিল না পশ্চিমবঙ্গ সরকারও। গত অক্টোবর মাসেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিল নবান্ন। ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন।

তবে সাম্প্রতিক এই ডিএ বৃদ্ধিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বাংলার সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কেন্দ্রের সমহারে মহার্ঘ ভাতার (Central DA) কড়া দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। রাজ্য সরকারের তরফেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য ও কেন্দ্রের ডিএ-র এই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *