‘দিল্লিতে গিয়ে মোদীকে নিশানা, কিন্তু বাংলায় কি জমি আছে?’ রামলীলার মঞ্চে মমতাকে দেখে ধুয়ে দিলেন বিজেপির নাজিয়া!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc)-র মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে যখন জাতীয় রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই পাল্টা সুর চড়িয়ে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম পরিচিত মুখ নাজিয়া ইলাহী খান। বিশেষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমাবেশে উপস্থিতি এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিলেন এই বিজেপি নেত্রী।
‘দিল্লির মঞ্চে গর্জন, কিন্তু বাংলায় অস্তিত্ব সংকট!’
রামলীলা ময়দানে ‘ভোট চুরি’ ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে নাজিয়া ইলাহী খান বলেন, জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের মুখ হওয়ার যে স্বপ্ন তৃণমূল নেত্রী দেখছেন, তা বাস্তবতার থেকে বহুদূরে।
তিনি কটাক্ষের সুর চড়িয়ে বলেন:
-
বাংলায় সমর্থন হারানো: “পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে নিজের দলের পায়ের তলার মাটি ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে। রাজ্যের মানুষ যেখানে তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসনে অতিষ্ঠ, সেখানে দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোটা কেবলই রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা।”
-
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন: নাজিয়ার দাবি, অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং অস্তিত্ব পুরোপুরি সংকটের মুখে পড়তে চলেছে।
‘ইন্ডিয়া জোট আসলে ব্যর্থ নেতাদের আখড়া!’
দিল্লির মহাসমাবেশকে ‘রাজনৈতিক সার্কাস’ বলে আখ্যা দিয়ে নাজিয়া ইলাহী খান অভিযোগ করেন, নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি লুকোতেই বিরোধী দলগুলো এক ছাতার নিচে আসার নাটক করছে। কিন্তু দেশের ১৪০ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর দায় চাপিয়ে কিংবা দিল্লির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তোপ দেগে লাভ হবে না; কারণ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনগণ আগামী নির্বাচনেই এই সমস্ত দেশবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির যোগ্য জবাব দেবেন।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শক্তিপ্রদর্শনের পরপরই বিজেপির নাজিয়া ইলাহী খানের এই শানিত আক্রমণ রাজ্য রাজনীতির পারদকে আরও কয়েক গুণ চড়িয়ে দিয়েছে।