‘না পঞ্জিকা, না তিথি!’ লক্ষ্মীপূজোর পর ছুটির দিন দেখেই জলপাইগুড়িতে শুরু দুর্গাপূজো, ১ দিনেই ষষ্ঠী থেকে দশমী!

দুর্গাপূজোর মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী—সাধারণত পাঁজি-পঞ্জিকা ও ক্ষণ মেনেই পুজো-অর্চনার রেওয়াজ রয়েছে বঙ্গজুড়ে। কিন্তু জলপাইগুড়ির এই বিশেষ পূজোয় কোনো তিথির নিয়ম খাটে না! ক্যালেন্ডারের পঞ্জিকা নয়, বরং পরিবারের সবার ছুটির দিন দেখেই এখানে শুরু ও শেষ হয় দেবী দুর্গার আরাধনা।
জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের রংধামালির মোড়লপাড়ায় সিদ্ধবাড়িতে প্রতি বছর লক্ষ্মীপূজোর ঠিক পরের রবিবার পালিত হয় এই অনন্য দুর্গাপূজো। গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং ছ’পুরুষ ধরে চলে আসছে এই অভিনব ঐতিহ্য।
এক দিনেই ষষ্ঠী থেকে দশমী! কিন্তু কেন এমন অকাল আরাধনা?
রবিবার সেই অকাল দুর্গাপূজোকে কেন্দ্র করেই উমার পুনরাগমনে মেতে উঠেছিলেন রংধামালির বাসিন্দারা। মণ্ডপে একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়ে যায় ষষ্ঠী থেকে শুরু করে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান।
সিদ্ধবাড়ির পরিবার সূত্রে জানা যায়:
-
সূচনা: এক শতকেরও আগে এই অকাল দুর্গাপূজোর সূচনা করেছিলেন সিদ্ধিনাথ রায়। তাঁর নামানুসারেই এই বাড়িটি ‘সিদ্ধবাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়।
-
ছুটির দিনের সমীকরণ: পরিবারের বর্তমান সদস্য ভূপতি রায় জানান, “আমাদের পরিবারের প্রায় সকলেই কর্মসূত্রে দেশের নানা প্রান্তে থাকেন। দুর্গাপূজোর মূল দিনগুলোতে সবার ছুটি মেলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিষ্ঠাতা সিদ্ধিনাথ রায়ের সময় থেকেই নিয়ম করে লক্ষ্মীপূজোর পরের রবিবার ছুটির দিন দেখে দুর্গাপূজো হয়ে আসছে। এর ফলে পরিবারের সবাই এক ছাদের নিচে মিলিত হতে পারেন।”
বিদায়ের পর ফের মেলা ও উৎসবের আমেজ!
এমনিতে বিজয়া দশমীর পর বাঙালির মন খারাপের মেঘ জমে। কিন্তু সিদ্ধবাড়ির এই একদিনের পূজো স্থানীয়দের জন্য বয়ে আনে আনন্দের জোয়ার। পূজোকে কেন্দ্র করে বসে মিলনমেলা ও আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
সিদ্ধবাড়ির নবপ্রজন্মের সদস্য কুণাল রায় আনন্দে আপ্লুত হয়ে বলেন, “মা দুর্গার বিসর্জনের পর যখন চারদিক নিঝুম হয়ে যায়, তখন আমাদের বাড়ির এই পূজোকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে মেতে ওঠেন এলাকার মানুষজন। যে যেখানেই থাকুক না কেন, এই বিশেষ রবিবারে সবাই বাড়ি ফিরে আসি। নতুন করে দেখা-সাক্ষাৎ ও আড্ডায় জমে ওঠে আমাদের দুর্গাপূজো।”
পঞ্জিকার তোয়াক্কা না করে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই অকাল পূজোর আনন্দ আর স্বজনদের মিলনমেলাই আজ সিদ্ধবাড়ির দুর্গাপূজোকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত করেছে।