‘একটু এগোলেই নামত সারের বস্তা, মাঝপথেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সেতু!’ কোচবিহারে মালবোঝাই লরি নিয়ে বিরাট কাণ্ড!

মালবোঝাই একটি ভারী ট্রাকের অতিরিক্ত ওজনের চাপে মাঝপথেই ভেঙে পড়ল একটি লোহার সেতু। রবিবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়িকাবাড়ি এলাকায়। ভেরভেরি নদীর ওপর তৈরি এই সেতুটি ভেঙে নদীতে ট্রাকটি ঢুকে পড়ার পর থেকেই গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে একটি সারবোঝাই ভারী ট্রাক ওই সেতুটি পার হওয়ার সময় আচমকাই সেতুর মাঝখানে আটকে যায়। এরপরই হুড়মুড়িয়ে বসে পড়তে শুরু করে সেতুটি এবং তা ভেঙে সোজাসুজি নদীতে গিয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা হিমাংশু চন্দের কথায়, “সকালে সার বোঝাই লরিটি সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝে আটকে যায় এবং আস্তে আস্তে সেতুটি বসে পড়ে। অথচ ট্রাকটি আর মাত্র এক কিলোমিটার গেলেই গন্তব্যে পৌঁছে সারের বস্তাগুলো নামিয়ে ফেলতে পারত!” তিনি আরও জানান, এই সেতুটির ওপর দিয়েই আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন। ফলে সেতু ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই কি এই পরিণতি? ক্ষোভ স্থানীয়দের

স্থানীয় বিজেপি নেতা তনয় বর্মন রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান:

  • পুরোনো জীর্ণ কাঠামো: সেতুটি বাম আমলে ১৯৯৭ সালে তৈরি হয়েছিল।

  • অবহেলা ও মরচে: নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কোনো রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে লোহার অংশগুলোতে মারাত্মকভাবে মরচে ধরে সেটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

  • স্বস্তির খবর: বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগে আপাতত বিকল্প হিসেবে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তৎপরতা

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ঘোকসাডাঙা থানার পুলিশ-সহ মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের বিডিও এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা। তাঁরা গোটা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখেছেন। তবে প্রশাসনের তরফে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলতে নারাজ কর্তারা।

দ্রুত বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং ধসে পড়া সেতুটি সারাইয়ের দাবিতে ক্ষোভে ফুটছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *