‘বিদেশি টাকায় কেনা হচ্ছে হিন্দু ধর্মান্তকরণ?’ মালদায় মিশনারিদের অনুষ্ঠানে তুলকালাম, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ!

বিজেপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (UCC) চালু ও লাভ জিহাদ-ধর্মান্তকরণ রোখার যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তার মাঝেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক ধর্মান্তকরণের অভিযোগে শোরগোল তৈরি হয়েছে। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার গোলা মোড় এলাকায় বিদেশি অর্থ কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভুল বুঝিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল খ্রিস্টান মিশনারিদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সংগঠন ও বজরং দলের সদস্যরা আসরে নামতেই দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষে পুরো এলাকা আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
৪০টি মুসহর পরিবার ইতিমধ্যেই ধর্মান্তরিত! রবিবারের অনুষ্ঠানে আগুন জ্বলল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় শতাধিক হিন্দু তফসিলি তালিকাভুক্ত মুসহর পরিবারের বসবাস। অভিযোগ, বিদেশি অর্থ সাহায্য ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ইতিমধ্যেই সেখানে প্রায় ৪০টি পরিবারকে খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। অভিযোগ ওঠে, একটি বাড়িতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্থ ও নানা সুবিধার বিনিময়ে আরও বেশ কয়েকটি পরিবারকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল মিশনারিরা। খবর পেতেই স্থানীয় কিছু যুবকের তরফ থেকে বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে বিষয়টি জানানো হয়।
বজরং দলের প্রবেশে তোলপাড়, ভাঙচুর ও ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি
হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই মিশনারি ও আয়োজকদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
-
ভাঙচুরের অভিযোগ: যে বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে হিন্দু সংগঠনগুলি এই ভাঙচুরের দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
-
মারধরে আহত ৫: পাল্টা হামলায় বজরং দলের পাঁচজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
-
বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনের সুর চড়া: বিদেশি ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এমন বেআইনি কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বিজেপি ও বজরং দল।
‘স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছি ধর্ম’, পাল্টা দাবি ধর্মান্তরিতদের
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনা ঘিরে এখনো পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
তবে ধর্মান্তরিত হওয়া পরিবারগুলির সদস্যরা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কোনো চাপ বা অর্থের লোভে নয়, বরং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ পেয়ে স্বেচ্ছায় খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজ্যে ইউসিসি (UCC) চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও জেলায় জেলায় কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।