‘জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন!’ দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে রাহুলের বিস্ফোরক হুঙ্কার, তুমুল তোলপাড় রাজনীতি!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে কেন্দ্রকে ধুয়ে দিল বিরোধী শিবির, অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে তীব্র আক্রমণের নিশানায় আনল শাসকদল বিজেপি।

বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র রাহুল গান্ধীর ভাষণকে আক্ষরিক অর্থেই ‘সম্পূর্ণ সময় নষ্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। পালটা দাবি তুলে কংগ্রেসের বি কে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর দেশ এমন ঐতিহাসিক জনস্রোত আর দেখেনি।

‘সকাল থেকে শুনলাম, কিন্তু পুরোটাই সময় নষ্ট!’

রবিবারের মহাসমাবেশ এবং বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চাঁচাছোলা জবাব দেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।

তিনি বলেন, “আমি সকাল থেকেই বিরোধীদের এই সভার ওপর নজর রেখেছিলাম। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যও মন দিয়ে শুনেছি। কিন্তু পুরোটা শোনার পর মনে হলো—এ তো স্রেফ সময় নষ্ট! এই বক্তব্যের কোনো রাজনৈতিক বা বাস্তবিক গ্রহণযোগ্যতা নেই।”

‘স্বাধীনতার পর দেশের অন্যতম বড় সমাবেশ!’

বিজেপির এই কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ।

রামলীলা ময়দানের বিশাল জনস্রোতকে তুলে ধরে তিনি দাবি করেন:

  • নতুন রেকর্ড: ১৯৪৭ সালের পর দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশের সাক্ষী থাকল দিল্লির রাজপথ।

  • মোদী সরকারকে বার্তা: দেশের হাজার হাজার মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষ এই সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ।

  • ইস্তফার দাবি: জনমতের তোপে বর্তমান শাসকদলের কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে পদে ইস্তফা দেওয়া উচিত।

‘জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন!’ ভোটার তালিকা ইস্যুতে তোপ রাহুলের

সমাবেশের মূল সুর ছিল নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র বিস্ফোরক অভিযোগ।

মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর পরিকল্পনামাফিক ভোটার তালিকা থেকে ১৫ শতাংশ (প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ) ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাহুলের হুঁশিয়ারি, “জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে।”

মমতা-অখিলেশ-তেজস্বীদের একযোগে গর্জন

মহাসমাবেশে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্ষরিক অর্থেই শূলবিদ্ধ করেন শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব:

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR)-এর নামে চক্রান্তের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের হুঙ্কার দেন তিনি।

  • অখিলেশ যাদব: রামলীলার মঞ্চ থেকেই ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিশ্চিত পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান।

  • অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব: আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি এবং কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

সব মিলিয়ে, বিরোধী শক্তির এই ঐতিহাসিক মহা-জমায়েত এবং বিজেপির কড়া পালটা আক্রমণে আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা মিলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *