সিরামিক মগ আর জলের গ্লাসের আড়ালে কোটি কোটি টাকার নিষিদ্ধ নেশা! কলকাতা বন্দরে DRI-এর জালে চোখ কপালে তোলা পাচার

এ এক অদ্ভুত নেশার কারবার! কাঁচের গ্লাস বা সিরামিক মগের আড়ালে যে এভাবে কোটি কোটি টাকার নিষিদ্ধ ই-সিগারেট পাচার করা হতে পারে, তা ভাবতেও অবাক লাগে। কলকাতা বন্দরে ফের এক বিশাল আকারের পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে জোড়া অভিযানে ৫৫ হাজারেরও বেশি নিষিদ্ধ ই-সিগারেট উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই অবৈধ সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। গত ২৪ অক্টোবর এই সফল অভিযান চালানো হয় বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।

কীভাবে ফাঁস হলো পাচারের অভিনব কায়দা?
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা DRI সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে নেপালগামী ট্রান্সশিপমেন্টের দুটি সন্দেহজনক কন্টেনার আটক করেন আধিকারিকরা। এরপর কন্টেনারগুলি খুলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁদের।

প্রথম কন্টেনার: এই কন্টেনারে নথিপত্র অনুযায়ী ‘ওয়াটার গ্লাস’ বা কাঁচের গ্লাস থাকার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে IGET ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ফ্লেভারের প্রায় ৪০ হাজার নিষিদ্ধ ই-সিগারেট!

দ্বিতীয় কন্টেনার: নথিতে ‘সিরামিক মাগ’ থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও, কন্টেনারের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় আরও প্রায় ১৫ হাজার ই-সিগারেট। সেগুলির মধ্যে VTV, VOKO, Bang এবং Ejoy-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নিষিদ্ধ পণ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

ঘোষিত পণ্যের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে এই ই-সিগারেটগুলি পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে DRI। পাচার হওয়া ই-সিগারেটের পাশাপাশি আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত কাঁচের গ্লাস ও সিরামিক মগগুলিও শুল্ক আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আইনত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশজুড়ে কড়া নজরদারি
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ‘প্রোহিবিশন অফ ইলেকট্রনিক সিগারেটস অ্যাক্ট’ (Prohibition of Electronic Cigarettes Act) অনুযায়ী ভারতে সব ধরনের ই-সিগারেট এবং ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS)-এর উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, পরিবহণ, বিক্রি, বণ্টন, মজুত ও বিজ্ঞাপন আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ডিআরআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বন্দর, বিমানবন্দর এবং ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার মোট আনুমানিক মূল্য ১২০ কোটি টাকারও বেশি। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে এই ধরনের বেআইনি আমদানি ও পাচার রুখতে নজরদারি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *