অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! কোটি কোটি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য কবে থেকে বদলাচ্ছে বেতনকাঠামো?

দেশের কোটি কোটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th CPC)-এর প্রক্রিয়া। বর্তমানে এই কমিশন পরামর্শ ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে বিভিন্ন ইউনিয়ন, কর্মচারী গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করছে কমিশন।
কাদের উপরে প্রভাব পড়বে এই কমিশনের?
প্রতি ১০ বছর অন্তর কেন্দ্রীয় সরকার এই বেতন কমিশন গঠন করে থাকে। এর মূল কাজ হলো সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন পুনর্বিবেচনা করা। এছাড়া অবসরকালীন সুবিধা, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন খাতের অবদান সংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিশন। অষ্টম বেতন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবেন ১ কোটিরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লাখ পেনশনভোগী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে রেল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মীরাও রয়েছেন।
কমিশনের নেতৃত্ব ও কার্যপরিধি
স্বাধীনতার পর এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম বেতন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে এই কমিশন গঠিত হয়েছে। সংসদের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনকে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের মে মাসে।
কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, পে-ম্যাট্রিক্স, মহার্ঘ ভাতা (DA), হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করাই এই কমিশনের মূল দায়িত্ব। বর্তমান বাজারদর এবং কাজের ধরন মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে কমিশন।
স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক ও আলোচনা
বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন এবং মন্ত্রকগুলোর কাছ থেকে মেমোর্যান্ডাম বা প্রস্তাব সংগ্রহ করেছে কমিশন। বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে গিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকও সেরেছে কমিশন কর্তৃপক্ষ। ইউনিয়নগুলির তরফে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ন্যূনতম বেসিক পে বাড়ানোর বড় দাবি তোলা হয়েছে। তবে কমিশন চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার পরেই সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালে সুপারিশ জমা পড়ার পর তা পুরোপুরি কার্যকর হতে সময় লাগবে। ফলে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের চোখ এখন এই কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই রয়েছে।