ফিলিপিন্সের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজনাথের হুঙ্কার! সীমান্ত পারের সন্ত্রাসীদের নাম না করে ধুয়ে দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল ভারত। বৃহস্পতিবার ফিলিপিন্সের সেবুতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘এডিএমএম-প্লাস’ (ADMM-Plus) ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় ভারতের এই দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎখাত করতে ভারত সর্বতোভাবে বদ্ধপরিকর।

“আমাদের অভিজ্ঞতা বইয়ের পাতায় আটকে নেই”
বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাস দমনে ভারতের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, “সন্ত্রাস দমনে ভারতের অভিজ্ঞতা কিন্তু কোনো ক্লাসরুম বা বইয়ের পাতায় আটকে নেই। বরং দশকের পর দশক ধরে সীমান্তে সুরক্ষার তীব্র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিটি কৌশলই বাস্তবে পরীক্ষিত এবং সম্পূর্ণ সফল।”

‘অপারেশন সিন্দুর’-এর স্মৃতি স্মরণ
বক্তব্য চলাকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বছরের ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গত বছর অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে আমরা সন্ত্রাস দমনে ভারতের কড়া মনোভাবের একটি স্পষ্ট ও বড় উদাহরণ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলাম। সেবার জঙ্গিদের একাধিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান যে কতটা আপসহীন, তা আমরা সেদিনই পরিষ্কার করে দিয়েছিলাম।”

যৌথ লড়াইয়ের আহ্বান ও শোকপ্রকাশ
এডিএমএম-প্লাস সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সন্ত্রাস দমনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব দেন, যৌথ সামরিক মহড়া, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে গোটা অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব। আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে ভারত সর্বদা প্রাধান্য দেয় উল্লেখ করে তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতেই একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, বক্তব্যের শুরুতেই গত ২৩ অক্টোবর ফিলিপিন্সে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বায়ুসেনা সদস্যদের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ করেন রাজনাথ সিং। ফিলিপিন্স বায়ুসেনার চারজন সাহসী পাইলটের অকাল মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সশস্ত্র বাহিনীর পাশে ভারত সম্পূর্ণভাবে রয়েছে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *