‘আমি গর্বিত, আমি দিমাগি নকশাল!’ নাসিরুদ্দিন শাহের বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম তোলপাড়, কড়া জবাবে কী বললেন মন্ত্রী রিজিজু?

দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকারের নীতি ও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। আর তার পরেই ৭৬ বছর বয়সী এই প্রবীণ অভিনেতাকে ‘বিপজ্জনক আরবান নকশাল’ এবং ‘ধ্বংসাত্মক বুদ্ধিজীবী’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় আইন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। নাসিরুদ্দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে এতদিন তাঁর ভুল ধারণা ছিল বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। মূলত অভিনেতার সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতর।
রিজিজুর চরম আক্রমণ: ‘অনেক দেরিতে আসল রূপ চিনলাম’
সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে কিরেণ রিজিজু লেখেন, নাসিরুদ্দিন শাহকে তিনি এতদিন কেবল একজন প্রতিভাবান অভিনেতা হিসেবেই শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু তাঁর প্রকৃত মানসিকতা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। অত্যন্ত দেরিতে হলেও অভিনেতার আসল রাজনৈতিক রূপ তিনি বুঝতে পেরেছেন বলে দাবি করেন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। একই সঙ্গে রিজিজু মন্তব্য করেন, শাহের এই ধরণের আচরণ ও বক্তব্য ভারতের সার্বিক গণতন্ত্র ও সুরক্ষার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর।
‘আমি গর্বিত, আমি দিমাগি নকশাল!’— বুকেই ব্যাজ পরা ছবি
বিতর্কের সূত্রপাত মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে, যেখানে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থন জানাতে দেখা যায় নাসিরুদ্দিনকে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেতা।
ভিডিওতে শাহের বুকে স্পষ্ট ভেসে ওঠে ‘দিমাগি নকশাল’ লেখা একটি ব্যাজ। নিজেকে এই পরিচয়ে চিহ্নিত করতে তাঁর কোনো দ্বিধা নেই জানিয়ে অভিনেতা বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমি দিমাগি নকশাল।” পাশাপাশি, তাঁকে বা তাঁর সমমনোভাবাপন্নদের বিভিন্ন সময়ে ‘দেশবিরোধী’ কিংবা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো যেসব তকমা দেওয়া হয়, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
ছাত্র আন্দোলন থেকে মোদীর শিক্ষানীতি: একাধিক ইস্যুতে সোচ্চার
নিজের বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের অদম্য মনোভাবের প্রশংসা করে নাসিরুদ্দিন প্রশ্ন তোলেন, “দেশের তরুণদের মনোবল ভেঙে দিতে, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে সরকার আর কতদূর যাবে?” বক্তব্যের শেষে তিনি ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতা সংগ্রামী বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত কবিতা ‘সরফরোশি কি তমন্না’-র পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার প্রতিবাদের সরব হয়েছেন এই প্রবীণ অভিনেতা। সম্প্রতি কলকাতার ‘সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’ (SRFTI)-এর আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থন জানানোর পাশাপাশি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়েও সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ২০০৬ সালের পর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। সম্প্রতি তীব্র আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচনী সূচি এবং সংসদের নতুন সংবিধান অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিতে এখনও অনড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আর তাঁদের এই লড়াইকে সমর্থন জানাতে গিয়েই এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চরম রোষের মুখে পড়লেন নাসিরুদ্দিন শাহ।