“আন্টি আর বেবির যৌথ ভেঞ্চার!” ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির রেশ ধরেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতাকে নিশানা করে একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন যে, এই দুর্নীতি ও আঁতাত আসলে ‘আন্টি আর বেবির যৌথ লড়াই ও যৌথ ভেঞ্চার’।
“ওঁরা একসঙ্গে ডুয়েট গাইতেন, এক গাড়িতে ঘুরতেন”
ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তকারী সংস্থাগুলি নির্দিষ্ট ও শক্তপোক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “শিল্পী ও গায়কদের ঘাম থেকেও টাকা কেটে নিতেন ইন্দ্রনীল। স্ত্রীর নামে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি খুলে তথ্য-সংস্কৃতি দফতর থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে সিঙ্গুরে খামারবাড়ি বানিয়েছেন। অথচ আমরা এখনও দু’কামরার বেশি ফ্ল্যাটের জায়গা পেলাম না!”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের অতীতের মঞ্চ ভাগাভাগি ও সংগীতচর্চার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর টিপ্পনী, “ও একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। দু’জনে একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন, একসঙ্গে গান গাইতেন। এমনকি শেষ গানটাও আমরা শুনেছি— ‘আমার বিদায়ের সময় হলো, দাও বিদায়…’— দু’জনে মিলেই ডুয়েট গেয়েছেন!”
“সিপিএমের ব্লু-আইড বয় থেকে দলবদল”
ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক অতীত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাম জমানায় তৎকালীন শাসকদলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। সিপিএমের ‘ব্লু-আইড বয়’ হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ও সরকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলে নাম লেখান। সর্বোচ্চ আদালতে রক্ষাকবচ চেয়েও কাজ না হওয়ায় আইন আইনের পথেই চলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের জবাবে রাজনৈতিক মহল মনে করচ্ছে যে, এই গ্রেফতারির ফলে রাজ্যের শাসক শিবিরে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।
“খেলা সবে শুরু, এখনও ব্রেকফাস্ট হয়নি!”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্রনীলের স্টুডিও থেকে তৃণমূল নেত্রীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যঙ্গ করে বলেন, “সব জায়গায় দু’জন একসঙ্গে গান করত, একই গাড়িতে ঘুরত! কে আর চান্স পেত গাড়িতে ওঠার? তৃণমূল যাঁরা তিল তিল করে তৈরি করেছেন, তাঁরাও তো সেই সুযোগ পাননি।”
সবশেষে এক চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি বিধানসভাতেই বলেছিলাম, খেলা সবে শুরু। এখনও ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট হয়নি, কেবল চা-বিস্কুট চলছে! আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলের ভাত খেতে হবে, ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে— শুধু অপেক্ষা করুন!”