রেলের জমিতে জাঁকিয়ে বসা অবৈধ দখলে বড় কোপ! রাতের অন্ধকারে হুলুস্থুল কাণ্ড হুগলি স্টেশনে

হুগলি স্টেশন চত্বরে রেলের অধিগৃহীত জমি দখলমুক্ত করতে এবার কঠোর ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিল রেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে ভারী বুলডোজার নামিয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকার একাধিক অবৈধ নির্মাণ এক লহমায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক ও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গোটা স্টেশন চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে মেগা উচ্ছেদ অভিযান
রেল সূত্রে খবর, হুগলি স্টেশনের সীমানা সংলগ্ন জমিতে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে বেশ কিছু দোকান ও স্থায়ী-অস্থায়ী পাকা ও কাঁচা নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। রেলের তরফে এলাকা খালি করার জন্য একাধিকবার নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জমি দখলমুক্ত হয়নি।
অবশেষে মঙ্গলবার রাতে জিআরপি (GRP), রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং স্থানীয় পুলিশের বিশাল কনটিনজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামে রেল প্রশাসন। সেখানে নিয়ে আসা হয় একাধিক ভারী বুলডোজার। মুহূর্তের মধ্যে বুলডোজারের আঘাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক দোকান ও ঘরবাড়ি।
গৃহহীন বেশ কয়েকটি পরিবার, এলাকায় চাঞ্চল্য
যাঁদের আবাসন ও দোকান ভাঙা পড়েছে, তাঁদের দাবি— বহু বছর ধরে তাঁরা ওই স্থানে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিলেন। রাতের বেলায় আচমকা এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযানে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। পরনের জামাকাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রটুকু সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ মেলেনি বলেও অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
তবে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ট্রেনের নিরাপদ চলাচল, স্টেশন চত্বরের সুরক্ষা এবং আগামী দিনে স্টেশন সম্প্রসারণ বা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থেই দখল হয়ে থাকা জমি উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য সারা রাত স্টেশন চত্বর ঘিরে রেখেছিল আরপিএফ ও পুলিশ বাহিনী।