“মাঠের ভাড়াই শূন্য!”-ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের জন্য নবান্নের উপহার, টিকিট দামে বড় ধামাকা

কলকাতার ময়দানের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) মরশুমে সল্টলেক স্টেডিয়াম তথা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজনের জন্য দুই প্রধানকে আর গুনতে হবে না কোনো ভাড়াই! শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব দুটির আর্থিক বোঝা কমাতে স্টেডিয়ামের সম্পূর্ণ ভাড়া মকুবের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
“দুই প্রধান দেশের গর্ব”— সরকারের পাশে থাকার বার্তা:
সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, “মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল আমাদের বাংলা তথা সমগ্র দেশের গর্ব। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাস এই দুই ক্লাব ছাড়া অসম্পূর্ণ। এমন ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারের দাঁড়ানো অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার জন্য আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
তবে মাঠের ভাড়া সম্পূর্ণ মকুব হওয়ার পর সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম কমবে কি না—সেই প্রশ্নে বল ক্লাব কর্তৃপক্ষের কোর্টেই ঠেলেছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, এটি পুরোপুরি ক্লাব প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত।
আনন্দের সাশ্রয় মোহনবাগানে, কমে গেল সদস্যদের টিকিটের দাম:
সরকারের এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত জানান, দেশের অন্যান্য ফুটবলপ্রেমী রাজ্যে রাজ্য সরকারগুলি নিজ নিজ ক্লাবকে বিনামূল্যে মাঠের সুবিধা দিয়ে থাকে। সেই যুক্তিতেই বাংলায় স্টেডিয়াম ফ্রি করার আবেদন জানানো হয়েছিল।
এই সুবিধার সুফল সমর্থকদের হাতে তুলে দিতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ। দেবাশিস দত্ত ঘোষণা করেন, যুবভারতীর ম্যাচগুলোতে এতদিন মোহনবাগান সদস্যরা ৭৫ টাকার বিনিময়ে যে টিকিট পেতেন, সরকারের ভাড়া মকুবের ফলে তার দাম কমিয়ে এবার থেকে মাত্র ৫০ টাকা করা হলো।
লাল-হলুদ শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস:
অন্যদিকে, পৃষ্ঠপোষক সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কাছে এই সিদ্ধান্ত নতুন অক্সিজেনের যোগান দিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত (নিটু) সরকার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, “রাজ্য সরকারকে অশেষ ধন্যবাদ। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। গত বছর আইএসএলে যুবভারতী ফ্রি পেয়েছিলাম, এ বার এএফসি (AFC) ম্যাচের জন্যও ক্রীড়ামন্ত্রী আমাদের জন্য মাঠের ভাড়া মকুব করে দিয়েছিলেন। এবার চলতি ISL-এও এই ছাড় পাওয়ায় ক্লাবের ঘাড় থেকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক চাপ নেমে গেল।”
তবে আইএসএল ও মহাদেশীয় এএফসি ম্যাচের জন্য যুবভারতীর ভাড়া মুকুব করা হলেও, আইএফএ শিল্ড, ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ কিংবা কলকাতা ফুটবল লিগের (CFL) মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে স্টেডিয়ামের ভাড়া নিয়ে সরকারি নীতি কী হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, মরশুমের মাঝপথেই দুই প্রধানের জন্য নবান্নের এই মাস্টারস্ট্রোকে যেমন ক্লাব কর্তারা খুশি, তেমনই সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা।