“FIR করলেই তদন্ত করবে CID!” ঋতব্রতর বিস্ফোরক অভিযোগে জলঘোলা, বিধানসভায় সরব শুভেন্দু

নির্বাচন কমিশনে বিধায়ক ও সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা জমা দিতে যাওয়ার পথে ট্রাক হামলা এবং নথি ছিনতাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীদের তোলা সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ধরনের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হলেই পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে সিআইডি।

কী অভিযোগ তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?

প্রকৃত রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেই আবহেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, সড়কপথে দিল্লিতে হলফনামার নথি ভর্তি ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা সেটিতে হামলা চালায় এবং নথিপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হতেই এদিন বিধানসভায় প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে যে হলফনামা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি বলব, যদি এই বিষয়ে এফআইআর (FIR) করা হয়, তবে পুরো মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি (CID)-কে দেওয়া হবে। এই ধরনের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ঘটনা আমাদের রাজ্যে না ঘটলেই ভালো।”

নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ ও কড়া বার্তা

এদিন বিধানসভায় নতুন দুই জয়ী বিধায়ক হাসিরানি রথ এবং শাখারভ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এক বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী।

হাসিরানি রথের উদ্দেশ্যে আশ্বাসবাণী দিয়ে তিনি জানান:

  • “আমার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকার অপরাধেই তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)।”

  • শ্যুটার ও সুপারি কিলার ধরা পড়লেও, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড বা সুপারিদাতা কে ছিল, তা সিবিআই দ্রুত বের করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজনৈতিক কটাক্ষ

এদিনের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বিরোধীদেরও বিঁধতে ছাড়েননি শুভেন্দু। তিনি সাফ জানান, এতদিন ধরে যারা তাঁদের দলকে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের তকমা দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনে রেজিনগরের সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের সেই অভিযোগ ভুল প্রমাণিত করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *