জিয়াগঞ্জের ‘হেঁশেলে’ আচমকা হাজির অরিজিৎ, কর্মীদের সাথে ছবি তুললেন অরিজিৎ

আট থেকে আশি—সারা বিশ্বের কোটি কোটি সংগীতপ্রেমী মজে আছেন যাঁর কণ্ঠের জাদুতে, সেই অরিজিৎ সিং ফের প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ‘মাটির মানুষ’ বলা হয়। বিশ্বজোড়া খ্যাতি এবং আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও কোনো তারকাসুলভ জাঁকজমক স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে। মুম্বইয়ের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা কোটি টাকার গাড়ি ছেড়ে আজও তিনি শিকড় আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। সম্প্রতি নিজের শহরের পারিবারিক রেস্তোরাঁ ‘হেঁশেল’-এ আচমকা ঢুঁ মেরে ফের চর্চায় এলেন এই সুপারস্টার।
মালিক বা ‘বস’ নয়, হাজির হলেন ঘরের বড়দা হয়ে
হলুদ রঙের সাদামাটা পাঞ্জাবি-পায়জামা, পায়ে চটি, কোঁকড়া চুল আর মুখে সেই চিরচেনা হাসি—হঠাৎ করেই জিয়াগঞ্জের হাতিবাগানে অবস্থিত নিজের পারিবারিক রেস্তোরাঁ ‘হেঁশেল’-এ হেঁটে প্রবেশ করেন অরিজিৎ। যাঁকে একঝলক দেখতে বা যাঁর গান শুনতে মানুষ লক্ষ টাকার টিকিট কাটে, তাঁকে এভাবে রেস্তোরাঁর দরজা দিয়ে সোজা হেঁটে আসতে দেখে মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে যান কর্মীরা।
তবে রেস্তোরাঁয় ঢুকেই সব জড়তা ভেঙে দেন গায়ক। কোনো তারকাসুলভ দূরত্ব না রেখে, রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে কাঠের টেবিলে আড্ডায় মেতে ওঠেন তিনি। একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে কর্মীদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়া—সবকিছুতেই ছিল নিখাদ আন্তরিকতা।
স্মৃতি বাঁধিয়ে রাখার মতো সেলফি ও আড্ডা
রেস্তোরাঁর এক কর্মী আপ্লুত হয়ে জানান, “দাদা এসে আমাদের সঙ্গে যেভাবে মিশলেন, মনে হলো পরিবারেরই কেউ বাড়ি ফিরেছে।” কর্মীদের সেলফির আবদারও হাসিমুখে মেটান গায়ক। কর্মীদের সঙ্গে নেওয়া অরিজিতের সেই সেলফি ও ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ গায়কের এই মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: অরিজিতের দারুণ উদ্যোগ
উল্লেখ্য, জিয়াগঞ্জের হাতিবাগানে অবস্থিত এই ‘হেঁশেল’ রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করেন অরিজিতের পরিবারের সদস্যরা। খাঁটি বাঙালি খাবারের জন্য রেস্তোরাঁটি স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই রেস্তোরাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর খাবারের দাম।
তারকা পরিবারের ব্যবসা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই রাখা হয়েছে প্রতিটি পদের দাম। বিশেষ করে শহরের কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে অরিজিতের নির্দেশেই এখানে চালু রাখা হয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে সামান্য টাকার জন্য না খেয়ে বা চিন্তা করে থাকতে না হয়, সেই কারণেই গায়কের এই মানবিক উদ্যোগ। তারকা হয়েও কীভাবে শিকড়কে মনে রাখতে হয়, তা যেন বারবার শিখিয়ে দিচ্ছেন জিয়াগঞ্জের এই ভূমিপুত্র।