মোদীর বারাণসীর দু’টি আসনেই BJP হারল, চমকে দেয়া রেজাল্ট অখিলেশের সপা-র

আগামী বছরের হাইভোল্টেজ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত। উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের (MLC) নির্বাচনে সকলকে চমকে দিয়ে নজরকাড়া ফল করল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (SP)। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে শিক্ষক ও স্নাতক দুই আসনেই বড় ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল বিজেপি। বারাণসী শিক্ষক বিধান পরিষদ আসনটি নিজেদের দখলে রাখার পাশাপাশি স্নাতক আসনটিতেও বড় জয়ের পথে সমাজবাদী পার্টি।

তবে সামগ্রিক ফলাফলের বিচারে অবশ্য রাজ্যের ১১টি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে ৫টিতে জয় এবং ১টিতে এগিয়ে থেকে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে গেরুয়া শিবির। লখনউ, মেরঠ-সাহারানপুর, বরেলি সহ একাধিক স্থানে জয় পেয়েছে বিজেপি।

বারাণসীতে এত চর্চা কেন? জেনে নিন সমীকরণ

বারাণসী লোকসভা আসনটি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র হওয়ায়, এই বিধান পরিষদ নির্বাচনের দিকে পুরো দেশের আলাদা নজর ছিল। বারাণসীর শিক্ষক বিধান পরিষদ (MLC) আসনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী লালবিহারী যাদব ৪,৮৯৮ ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী প্রমোদ কুমার মিশ্রকে। ২০২০ সালেও লালবিহারী জয়ী হয়েছিলেন, তবে এবার জয়ের ব্যবধান বহুগুণ বাড়িয়ে বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বারাণসীর স্নাতক আসনেও বিজেপির বর্ষীয়ান প্রার্থী কেদারনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় সুনিশ্চিত করেছেন সপা-র আশুতোষ সিনহা।

কী এই শিক্ষক ও স্নাতক বিধান পরিষদ নির্বাচন?

যেসব রাজ্যে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (বিধানসভা ও বিধান পরিষদ) রয়েছে, সেখানেই এই ধরনের বিশেষ আসন থাকে। সংবিধান রচয়িতাদের ভাবনা ছিল—শিক্ষিত ভোটারদের মাধ্যমে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের আইনসভায় পাঠানো যাতে জাতপাত, অর্থবল বা পেশিশক্তির প্রভাব কমানো যায়।

  • এই নির্বাচনে কেবল নিবন্ধিত শিক্ষক ও প্রার্থীরাই পছন্দভিত্তিক (Preference Voting) পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারেন।

  • সাধারণ ভোটাররা এই নির্বাচনে অংশ নেন না।

২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়তি অক্সিজেন অখিলেশকে

বারাণসী ডিভিশনের অধীনে বারাণসী ছাড়াও চান্দৌলি, গাজিপুর, জৌনপুর, মির্জাপুর, সোনভদ্র, ভাদোহি ও বালিয়ার মতো একাধিক জেলা পড়ে। ফলে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমাজবাদী পার্টির এই সাফল্য অখিলেশ বাহিনীর মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। সপা নেতাদের একাংশের দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বারাণসীতে মোদীর জয়ের ব্যবধান কমে যাওয়ার পর, এই নির্বাচন প্রমাণ করল যে নিচুতলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।

যদিও পশ্চিম ও উত্তর উত্তরপ্রদেশের নিজেদের দুর্গ অক্ষত রেখে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে রয়েছে বিজেপিই, তবে খোদ মোদীর গড়ে অখিলেশ যাদবের এই থাবা বসানো ২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ দখলের লড়াইকে যে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *