হিরো-হিরোইনরা কি সত্যিই স্বচ্ছন্দ থাকেন ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে? ফাঁস হল বলিউডের আসল সত্যি!

বলিউডের ছবিতে নায়ক-নায়িকার রোমান্স কিংবা মাখোমাখো দৃশ্য দেখে দর্শকরা প্রায়ই মুগ্ধ হন। পর্দায় যে চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্যটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের বলে মনে হয়, ক্যামেরার নেপথ্যে তার প্রস্তুতি নিতে সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোথায় হাত রাখা হবে, পোশাক কতটা থাকবে কিংবা ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল কেমন হবে—সবটাই নিখুঁতভাবে আগে থেকে ছকে ফেলা হয়। অতীতে সিনেমায় অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য যেমন স্টান্ট ডিরেক্টর থাকতেন, তেমনই এখন এই ধরনের সংবেদনশীল দৃশ্যগুলির জন্য থাকছেন ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’ বা ঘনিষ্টতা নিয়ন্ত্রক।

কীভাবে শুট হয় অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো?
ক্যামেরার সামনে সাবলীলভাবে এই ধরনের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার কাজ মূলত শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় থেকেই। সংবাদমাধ্যম নিউজ৯ ডিজিটাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর আস্থা খান্না ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, ক্যামেরায় ঠিক কতটা ঘনিষ্ঠতা দেখানো হবে, তা আগে থেকেই মেপে নেওয়া হয়। এরপর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে তাঁদের নিজস্ব বাউন্ডারি বা সীমানা জেনে নেওয়া হয়। সেটে এই কোঅর্ডিনেটররা কড়া নজর রাখেন, যাতে পূর্বনির্ধারিত সীমার বাইরে কিছু না হয়।

পরিচালকের চাহিদার সঙ্গে শিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্যের সংঘাত বাধলে কী হয়? আস্থার মতে, এই সমস্যারও দারুণ সমাধান রয়েছে। কারও ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন না করেও ক্যামেরার ম্যাজিক ও নিখুঁত অ্যাঙ্গেলের মাধ্যমে পরিচালকের মনের মতো দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। কোরিওগ্রাফিতে বদল এনে বা ক্যামেরার কারসাজিতে দৃশ্যের আসল আবেগ বজায় রাখা যায়। আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকলে শিল্পীরাও শুটিংয়ের সময় আর অস্বস্তিতে পড়েন না, সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন অভিনয়ে।

কখন থেকে শুরু হল এই পেশা?
অনেকেরই ধারণা, হলিউডে বোধহয় এই পেশার প্রচলন বহু পুরনো। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। ২০১৮ সালে ‘দ্য ডিউস’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেই হলিউডে ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরদের কাজের সূচনা হয়। ভারতের বিনোদন জগতেও খুব একটা দেরি হয়নি। ২০১৯ সালে পরিচালক রাম কমল মুখোপাধ্যায়ের বাংলা ছবি ‘সিজনস গ্রিটিংস’-এ প্রথম এই পদের ব্যবহার দেখা যায়। এরপর ২০২২ সালে দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘গেহরাইয়াঁ’ ছবির মাধ্যমে বিষয়টি বলিউডে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। অনেকের ভুল ধারণাও রয়েছে যে, এঁরা হয়তো পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কাটছাঁট করেন। কিন্তু আসলে তা নয়, শিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখাই তাঁদের মূল কাজ।

‘সিজনস গ্রিটিংস’ ছবির অন্যতম অভিনেত্রী সেলিনা জেটলিও এই বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। সেই সময়ে তিনি সদ্য যমজ সন্তানের মা হয়েছেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে ক্যামেরার সামনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করা তাঁর জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর ছিল। তবে সেটে ইন্টিমেসি সুপারভাইজার মনীষা বসুর উপস্থিতির কারণে কাজটি তাঁর জন্য অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। সেলিনার কথায়, অভিনেতা হওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজের সম্মান বা স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতে হবে। পরিচালকের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া এবং পেশাদার সহযোগিতার ফলেই তিনি ভয় কাটিয়ে সাবলীলভাবে কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *