ড্রপ বক্সে ৬ হাজার আবেদন! কালীপুজোর পরই কি পুরভোটের মাস্টারপ্ল্যান প্রকাশ করবে বিজেপি?

কালীপুজোর পরপরই পুরভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ধাপে ধাপে নয়, বরং একসঙ্গেই সমস্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে পদ্ম শিবিরের। উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসের শেষেই রাজ্যে পুরভোট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করে দিতে পারে। আজ দুপুরেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি সর্বদলীয় বৈঠকে বসছে। সব মিলিয়ে, বলাই চলে রাজ্যে ফের নতুন করে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে।
পুরভোটকে কেন্দ্র করে শাসক শিবির যেমন জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, তেমনই বিজেপি শিবিরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি, যাঁরা নাকি ইতিমধ্যেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে আবেদন পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি, অন্য দল থেকে আসা নেতাদের প্রার্থী করা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এনসিপিআই-বিজেপি জোট জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজেপির ড্রপবক্সে আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং ধূপগুড়িতেও পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে গেরুয়া শিবির। তাই দ্রুত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চাইছে দল। আবেদনপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা—সব দিকেই কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
ড্রপ বক্সে প্রায় ৬ হাজার আবেদন?
বিজেপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হতে চেয়েই ড্রপ বক্সে প্রায় ৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তবে কেবল ড্রপ বক্সেই নয়, ই-মেল, ডাকযোগেও এবং সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের হাতেও প্রচুর আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থীদের আবেদন সংগ্রহের জন্য যে বিশেষ ড্রপ বক্স রাখা হয়েছিল, সেটি মোট আটবার খোলা হয়। প্রতিবার গড়ে প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০টি করে আবেদনপত্র জমা পড়েছিল বলে দাবি সূত্রের।
তবে আবেদনপত্রের এই বিপুল সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে প্রার্থী বাছাইয়ে এই ড্রপ বক্সের আসল গুরুত্ব কতখানি। খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে মন্তব্য করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে খবর হওয়ার জন্যই মূলত ড্রপ বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘যেটা হওয়ার, সেটা হবে।’ রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে কি ড্রপ বক্সে আবেদন জমা নেওয়া শুধুই প্রচারের কৌশল ছিল? নাকি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল?
আবেদনকারীদের নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক
দলীয় সূত্রে খবর, ড্রপ বক্সে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলির প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। শুধু কাগজের আবেদন দেখেই নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে বিজেপি। জেলা ও মণ্ডল স্তর থেকে আবেদনকারীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, দলের জন্য অবদান এবং এলাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা—সব দিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, একটি নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমেও আবেদনকারীদের বিষয়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। সমস্ত দিক ভালোভাবে যাচাই করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে গেরুয়া শিবির।