“বাংলোয় রাখা হচ্ছে ওরাংওটাং!” ভারতের কোটিপতিদের শখে কীভাবে বাড়ল ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চোরাকারবার?

বাঘ বা হাতি নয়, এবার আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের মূল নিশানা ভারতের হাই-প্রোফাইল বাজার! সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণীদের বেআইনি পাচারের অন্যতম কেন্দ্র বা ‘হাব’ হয়ে উঠছে ভারত। বিত্তবান ভারতীয়দের অসংযত শখ এবং ভারতের বন্যপ্রাণ আইনের শিথিলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে দেদার ঢুকছে বিদেশি বিরল বন্যপ্রাণী।

ওড়িশার জঙ্গলে সুমাত্রার ওরাংওটাং! গত সেপ্টেম্বর মাসে ওড়িশার এক গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় পাঁচটি ওরাংওটাং। সুমাত্রার রেইনফরেস্টে জন্ম নেওয়া এই প্রাণীরা ভারতের জঙ্গলে কীভাবে এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দর বা অন্য পথে চোরাচালানের পর কোনো অজ্ঞাত কারণে পাচারকারীরা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রাণীগুলিকে জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়।

শুধু ওড়িশা নয়; ২০২২ ও ২০২৩ সালে অসম ও মিজোরাম সীমান্ত থেকে উদ্ধার হয় একাধিক ওরাংওটাং। এমনকি মুম্বইয়ের অভিজাত আবাসন থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে এই বিরল প্রাণী। চলতি বছরের মে মাসে মিশর থেকে ভারতে শিম্পাঞ্জি পাচারের সময়েও হাতেনাতে ধরা পড়ে পাচারকারীরা।

৩৪ বিলিয়ন ডলারের বাজার ও আইনের ফাঁক: সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বেআইনি বন্যপ্রাণী পাচারের বৈশ্বিক ব্যবসার পরিমাণ বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আর এই বিশাল অঙ্কের ব্যবসায় ভারতের অংশীদারিত্ব দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বর্তমান বন্যপ্রাণ আইন মূলত দেশীয় প্রজাতি (যেমন—বাঘ, হাতি) রক্ষার জন্য তৈরি। বিদেশ থেকে আসা প্রাণীদের বেআইনি কেনাবেচা রোখার কড়া আইনি বিধান সেখানে বেশ শিথিল। কোভিডকালের এক নিয়মে পোষ্য রাখার তথ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক হলেও, সেই প্রাণীটি কোন দেশ থেকে বা কীভাবে আনা হয়েছে তা জানানো বাধ্যতামূলক ছিল না। সেই সুযোগ নিয়েই বিত্তবান ক্রেতারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে চোরাপথে কেনা প্রাণী নিজেদের ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখছেন।

পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি ও লাভজনক চোরাচালান: সুমাত্রার জঙ্গলে মাত্র ১,১৯,৫০০টি ওরাংওটাং অবশিষ্ট রয়েছে। রেইনফরেস্টে বীজ ছড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ন্ত্রণে রাখা এই প্রাণীদের সংখ্যা পাচারের কারণে দ্রুত কমছে।

থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতে পর্যটন ও বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো সত্ত্বেও পাচার থামছে না। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ব্যবসার মুনাফা এতটাই চড়া যে বিমানবন্দরে দু-একটি চালান ধরা পড়লেও পাচারকারী চক্রের বড় কোনো আর্থিক ক্ষতি হয় না। ফলে আইনের ফাঁক গলে বহাল তবিয়তেই চলছে কোটি কোটি টাকার এই বেআইনি কারবার।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *