ধর্মে হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট! ছত্তিশগড় সরকারের নতুন আইনে চরম স্থগিতাদেশের মুখে রাজ্য রাজনীতি

ছত্তিশগড়ের নতুন ‘ধর্ম স্বাতন্ত্র্য আইন, ২০২৬’ (Dharma Swatantrya Adhiniyam, 2026)-এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে বড় নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) জাস্টিস সূর্যকান্ডের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে ছত্তিশগড় সরকারকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব তলব করেছে।

আবেদনকারীদের মূল দাবি, রাজ্য সরকারের প্রশাসন ও পুলিশ যেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং প্রার্থনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে এবং রবিবারের বিশেষ প্রার্থনা সভায় প্রশাসনিক বাধার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে।

চার্চে প্রার্থনার সময় পুলিশি পদক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ
আদালতে পেশ করা আবেদনপত্রে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সরকারের এই নতুন আইনের বিভিন্ন ধারাকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এমনকি রবিবারে গির্জায় যে স্বাভাবিক প্রার্থনা সভাগুলো আয়োজন করা হয়, সেখানেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি ও পদক্ষেপ নেওয়ার খবর সামনে এসেছে। আবেদনকারীদের মতে, আইনের কিছু ধারার সংজ্ঞা এতটাই অস্পষ্ট ও ব্যাপক যে, তা সাধারণ মানুষের মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।

চলতি বছরের মার্চে পাস হয়েছিল এই বিতর্কিত আইন
উল্লেখ্য, ছত্তিশগড় বিধানসভায় চলতি বছর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘ধর্ম স্বাতন্ত্র্য বিল’ পাস হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলে রাজ্যপালের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ১৯৬৮ সালের পুরোনো আইনটিকে বাতিল করে এই নতুন আইন কার্যকর করা হয়। আইনটিতে ধর্ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, আগাম তথ্য প্রদান, এবং ধর্মান্তরকরণে যুক্ত ব্যক্তিদের নিবন্ধনের মতো কড়া শর্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসংগঠিত ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে কড়া শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ও হাইকোর্টের অবস্থান
আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, এই আইন সংবিধান প্রদত্ত ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী। একই সঙ্গে ছত্তিশগড় হাইকোর্টেও এই আইনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা চলছে, যেখানে গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল। সুপ্রিম কোর্ট শুনানির সময় পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, হাইকোর্টে হওয়া শুনানির সিদ্ধান্ত ও তথ্য এই মামলার আইনি বিষয়গুলো অনুধাবনে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *