পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে রাহুল গান্ধীর কনভয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! অন্তর্ঘাত নাকি গাফিলতি? গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের SIT

উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর কনভয়ে ঘটে যাওয়া মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DGP) রাজীব কৃষ্ণর নির্দেশে গঠিত এই টিমকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সুলতানপুর সফরের সময় রাহুল গান্ধীর কনভয়টি পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের ৯১ নম্বর মাইলস্টোনের কাছে পৌঁছালে আচমকাই পেছন থাকা পাঁচটি গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স একে অপরের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী, দলীয় পদাধিকারী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী জখম হন। তবে ভাগ্যক্রমে রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও অক্ষত রয়েছেন। এই ঘটনার পর শুরু হওয়া নানা রাজনৈতিক প্রশ্নের আগেই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
আইজি কিরণ এস-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের SIT
পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের জন্য লখনউ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (IG) কিরণ এস-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই টিমে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সুলতানপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) ব্রিজ নারায়ণ সিং এবং ট্রাফিকের পুলিশ ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (DSP) রাম কৃষ্ণ চতুর্দশী। এসআইটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার সমস্ত দিক বিশ্লেষণ করে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের মূল ৩টি প্রধান দিক:
১. দুর্ঘটনার আসল কারণ এবং তা ঘটার পেছনের পরিস্থিতি বিশদে খতিয়ে দেখা।
২. রাহুল গান্ধীর কনভয়ের নিরাপত্তা, এসকর্ট ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল কি না তা পরীক্ষা করা।
৩. ভবিষ্যতে এক্সপ্রেসওয়েতে এই ধরনের ভিআইপি চলাচলের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও পরামর্শ দেওয়া।
কেন সুলতানপুর যাচ্ছিলেন রাহুল গান্ধী?
উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের করা একটি বহুল চর্চিত মানহানি মামলার রায় শুনতে সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ (MP-MLA) আদালতে যাচ্ছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০১৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালে অমিত শাহকে নিয়ে করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র এই মামলা দায়ের করেছিলেন।
লখনউ থেকে সুলতানপুর যাওয়ার পথেই পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই বিশেষ আদালত রাহুল গান্ধীকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দিয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে নাকি এটি কেবলই একটি অনভিপ্রেত যান দুর্ঘটনা, এখন তা এসআইটি-র তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।