ভাণ্ডারায় চরম তাণ্ডব: জবলপুরে বুলেট চালানোর প্রতিবাদ করায় মন্দিরের সামনেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধারালো অস্ত্রের কোপে আহত বহু

ভান্ডার ও ধর্মীয় আয়োজনের জন্য পরিচিত মধ্যপ্রদেশের জবলপুর শহরে ঘটে গেল এক নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনা। মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও ভান্ডারার আনন্দমুখর পরিবেশ নিমেষেই পরিণত হলো রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিড়ভাট্টার মধ্যে বেপরোয়াভাবে বুলেট (Bullet) চালানোর প্রতিবাদ করার জেরে এই violent clashes বা হিংসাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কীভাবে ঘটেছিল এই ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে জবলপুরের রাंझी (Ranjhi) থানা এলাকার গোকলপুরস্থ আজাদ নগরের গনি বস্তিতে। স্থানীয় একটি মন্দিরে সাড়ম্বরে পূজা-পাঠ এবং ভান্ডারার আয়োজন করা হয়েছিল। দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ভিড় জমছিল সেখানে। ঠিক সেই সময়ই অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে একটি বুলেট বাইক ওই জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও ভক্তরা বাইকচালককে ভিড়ের মধ্যে সাবধানে ও ধীরে বাইক চালানোর অনুরোধ জানান। সামান্য এই কথা কাটাকাটি থেকেই শুরু হয় তীব্র বচসা।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বাইকচালক সেখান থেকে চলে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ৩-৪ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি-ডান্ডা ও ধারালো অস্ত্র হাতে পুনরায় ফিরে আসে। যারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, তারাই দুষ্কৃতীদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হন।
মহিলাসহ ৮-১০ জন আহত, দুজনের পায়ে ছুরিকাঘাত
হঠাৎ এই হামলায় ভাণ্ডার চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ও ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। আক্রমণকারীরা এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করলে মহিলাসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ জন ভক্ত গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি শান্ত করতে বা মাঝখান থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে যারা এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁরাও রক্ষা পাননি। দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি চাকুর আঘাতে দু’জন যুবকের পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সমস্ত আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।
কী বলছে পুলিশ?
খবর পাওয়া মাত্রই রাंझी থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে। রাंझी থানার ইনচার্জ উমেশ গোলহানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে সমীর বংশকার (Sameer Vanshkar)-এর নাম উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর পেছনে কোনো পুরনো রেষারেষি ছিল না, বরং স্পিডে বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে ঘটা তাৎক্ষণিক বচসাই এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ডের কারণ। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চলছে।
উল্লেখ্য, জবলপুরে পরপর এমন অপরাধমূলক ঘটনা জনমনে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে গত গড়া অঞ্চলেও এক চল সমারোহের মাঝে ছুরি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে এক সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভাণ্ডারের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের রক্তপাত ও হিংসা জবলপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।