৮৭টি বাইক ও গাড়ি বিজয়ী তারকা ‘রাজা’ হঠাৎ নিখোঁজ! হন্যে হয়ে খুঁজছে পুরো গ্রাম, সন্ধান পেলেই নগদ লাখ টাকা ইনাম!

পাঞ্জাবের কাপুরথলা জেলার সংঘিয়াঁ গ্রাম জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক আর হাহাকার। তবে কোনো মানুষের জন্য নয়, পুরো গ্রাম চোখের জল ফেলছে ২০ বছরের এক প্রকাণ্ড ও বিশ্বখ্যাত মোষের (ঝোট্টা) জন্য! নাম তার ‘রাজা’। ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি পশু দৌড় প্রতিযোগিতার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ‘রাজা ঝোট্টা’ গত দু’সপ্তাহ ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে ভেঙে পড়েছে তার মালিক জসকরণ সিং এবং তাঁর পরিবার।
‘রাজা’কে খুঁজে পেতে পরিবার এতটাই ব্যাকুল যে, যে ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করতে বা সন্ধান দিতে পারবে, তার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে।
৮৭টি মোটরসাইকেল, কার ও ট্র্যাক্টর বিজয়ী এক কিংবদন্তি!
‘রাজা ঝোট্টা’ কেবল একটি সাধারণ পশুই নয়, বরং আস্ত এক তারকা। বিগত ১৯ বছরের রেসিং ক্যারিয়ারে সে গরু ও মোষের ১০০টিরও বেশি ঐতিহ্যবাহী দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে এবং সিংহভাগেই জয়ী হয়েছে। সে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পুরস্কার হিসেবে জিতেছে একাধিক ট্র্যাক্টর, গাড়ি, ৮৭টি মোটরসাইকেল এবং লাখ লাখ টাকার নগদ পুরস্কার!
এক টানা ১০ বছর বিখ্যাত ‘ধপাই বলদ-দৌড় মেলা’ এবং টানা ৬ বছর ‘নট্টন দি দৌড়’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে রাজার দখলে। তার শক্তি, ক্ষিপ্রতা এবং একের পর এক জয়ের জন্যই সে পুরো পাঞ্জাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
রাজার জন্য পড়াশোনা ছেড়েছিলেন মালিক জসকরণ!
২৫ বছর বয়সী জসকরণ সিং কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, “রাজা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিল। ওর জন্যই আজ আমাদের গ্রামকে পুরো পাঞ্জাব চেনে।” মাত্র দেড় বছর বয়স থেকে জসকরণ রাজার যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি রাজার পরিচর্যা করার জন্য তিনি নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই নিজের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন!
রাজার ডায়েটও ছিল রাজকীয়— সাধারণ সুষম গো-খাদ্যের পাশাপাশি প্রতিদিন তাকে খাওয়ানো হতো মাখনা, বাদাম এবং খাঁটি ঘি-এর মিশ্রণ।
অবসরের ঠিক আগেই চুরি? কী বলছে পুলিশ?
পরিবার সূত্রের খবর, দুই সপ্তাহ আগে খেতের মোটরের পাশে রাজাকে বাঁধা হয়েছিল। পরদিন সকালে গিয়ে দেখা যায় সে গায়েব! শুধু রাজাই নয়, তার সঙ্গে পরিবার ও এক আত্মীয়ের দুটি মাদী মোষও গায়েব হয়েছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে একটি চুরি যাওয়া বোলেরো ক্যাম্পার গাড়ির সন্ধান পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই গাড়িতে করেই তিনটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ‘বাবা কাহান দাস বলদ দৌড় টুর্নামেন্ট’-এ রাজাকে পাগড়ি পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার এবং রেসিং ক্যারিয়ার থেকে ‘অবসর’ (Retirement) দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু তার আগেই এই অনভিপ্রেত ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।