অচেনা নম্বরের ফোন এলেই এবার স্ক্রিনে ভেসে উঠবে আসল নাম! বিরাট চমক আনতে চলেছে সরকার, বড় স্বস্তি পেতে চলেছেন গ্রাহকরা!

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কোনো অচেনা নম্বর ভেসে উঠলেই আমাদের মনে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, তা হলো—প্রান্তের ওপারে থাকা মানুষটি কে? এই চিরচেনা উদবেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। টেলিকম নিয়ামক সংস্থার কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে নম্বরের পাশাপাশি কলারের আসল নামও দেখতে পাবেন দেশের কোটি কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন টেলিকম অপারেটর তাদের নেটওয়ার্কে এই নতুন ব্যবস্থার সফল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে।
কোনো অ্যাপ ছাড়াই কাজ করবে এই প্রযুক্তি
ক্লিয়ারিং নেম প্রেজেন্টেশন বা সিএনএপি (CNAP) নামের এই নতুন টেলিকম সার্ভিসের মাধ্যমে ইনকামিং কল আসার সময় নম্বরের ঠিক পাশেই ভেসে উঠবে কলারের নাম। এর জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না বা টেলিকম সংস্থায় কোনো বাড়তি আবেদন জানাতে হবে না। সিম কার্ড তোলার সময় গ্রাহক যে নামে পরিচয়পত্র দিয়ে সংযোগটি রেজিস্টার করেছিলেন, সেই নামই ফুটে উঠবে অপর প্রান্তের স্ক্রিনে।
যদি নম্বরটি আপনার ফোনের কনট্যাক্ট লিস্টে সেভ করা থাকে, তবে আপনার দেওয়া নামই প্রধানত দেখাবে। তবে নম্বর সেভ না থাকলে টেলিকম কোম্পানির ডেটাবেসে থাকা আসল নামটি স্ক্রিনে চলে আসবে। এছাড়া বিদেশ থেকে আসা অচেনা কলের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ লেখা ভেসে উঠবে।
১ নভেম্বর থেকে প্রথম ধাপের সূচনা
চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে এই পরিষেবা চালুর প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র ৪জি এবং তার পরবর্তী উন্নত প্রযুক্তির ওয়ারলেস নেটওয়ার্কে কার্যকর হবে। ২জি, ৩জি নেটওয়ার্ক কিংবা ল্যান্ডলাইনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম এখনই প্রযোজ্য হচ্ছে না, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা সরকারি নিয়ম মেনে পরিচয় গোপন রাখার ‘সিএলআইআর’ (CLIR) সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের নাম এই তালিকায় প্রকাশ করা হবে না।
ব্যবসার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম ও ট্রেডমার্কের কড়াকড়ি
ব্যবসায়িক সংস্থা বা যারা একসঙ্গে একাধিক বালক কানেকশন ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ प्रावधान রাখা হয়েছে। কোম্পানিগুলো চাইলে ব্যক্তিগত নামের পরিবর্তে তাদের রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক নাম বা জিএসটি (GST) পোর্টালে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক নাম স্ক্রিনে দেখানোর আবেদন করতে পারবেন। তবে এর জন্য সমস্ত আইনি নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে টেলিকম অপারেটররা।
সাইবার জালিয়াতি কি পুরোপুরি থামবে?
সরকার এই উদ্যোগ নিলেও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এটি কোনোভাবেই সাইবার জালিয়াতি বা স্প্যাম কল পুরোপুরি বন্ধ করার গ্যারান্টি নয়। জালিয়াতি চক্রগুলো নানা ফন্দিফিকির করতে পারে। তাই স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠলেও ওপার থেকে কেউ ওটিপি (OTP), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য বা টাকা পয়সার লেনদেন চাইলে ব্যবহারকারীদের আগের মতোই সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষায় কড়া ‘সিকিউরিটি-বাই-डिजाइन’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে কল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কলারের নাম মুছে যাবে এবং কোনো তথ্য জমা থাকবে না।