ফেসবুক লাইভ চলাকালীনই গুলিবৃষ্টি, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা! পঞ্জাবে চরম নৈরাজ্য নিয়ে ভগবন্ত মানকে শাহের কড়া হুঁশিয়ারি!

পঞ্জাবে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা মাদকের কারবার, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং সংগঠিত অপরাধ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (AAP) নিয়ন্ত্রিত ভগবন্ত মান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, পঞ্জাবের মানুষ আর সরকারের কোনো ফাঁকা প্রচার চান না, তাঁরা চান সুনির্দিষ্ট উত্তর ও ফল।

ফেসবুক লাইভে হত্যা ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা—দুটি ঘটনায় শোরগোল!
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে অমিত শাহ পঞ্জাবের সাম্প্রতিক দুটি চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করেন। প্রথম ঘটনাটি মানসার, যেখানে পঞ্জাবে রমরমিয়ে চলা মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সমাজকর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটাকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভয়াবহ বিষয়টি হলো, এক মেডিকেল শপে মাদকের ওষুধ বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় পুরো ঘটনাটি ফেসবুক লাইভ চলাকালীন ক্যামেরাবন্দী হয়! এই ঘটনায় নিহতের পরিবার সরাসরি আপ সরকার ও স্থানীয় বিধায়কের দিকে আঙুল তুলেছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি দিরবার, যেখানে গুলজার সিং নামে এক ব্যক্তি আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মীদের চাপ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, তিনি পঞ্জাবের অর্থমন্ত্রীর কাছে গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই দুই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পঞ্জাব সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব তলব করবে বলে জানিয়েছেন অমিত শাহ।

‘প্রচার নয়, পঞ্জাবের জবাব চাই’
পঞ্জাবের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ পঞ্জাব মাদক, গ্যাংস্টাররাজ ও সংগঠিত অপরাধের কবলে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?” ভগবন্ত মানকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, পঞ্জাবের জনগণকে ফাঁকা আশ্বাস বা বিজ্ঞাপন দিয়ে ভোলানো যাবে না। মাদকের নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

‘পঞ্জাবকে মাদক ও গ্যাংস্টারমুক্ত করব’
পঞ্জাববাসীর উদ্দেশ্যে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অমিত শাহ ঘোষণা করেন, “রাজ্যে আমাদের সরকার গঠিত হলে আমরা পঞ্জাবকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত, গ্যাংস্টার মুক্ত এবং নিরাপদ পঞ্জাব হিসেবে গড়ে তুলতে সমস্ত শক্তি দিয়ে কাজ করব।” তিনি আশ্বাস দেন যে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই হবে মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *