২১ বছরের সংসার ও ৩ সন্তান! তারপরই স্ত্রীকে দেওয়া হলো ‘ত্রিপল তালাক’, পাটনা আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে তুমুল শোরগোল!

দীর্ঘ ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তিন সন্তানের জননী স্ত্রীকে অমানবিক নির্যাতনের পর ‘ত্রিপল তালাক’ দেওয়ার মাশুল গুনতে হলো স্বামীকে। এক ঐতিহাসিক রায় দিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬,৫০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে বিহারের পাটনা জেলা আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাস ২২ দিন অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে অভিযুক্তকে। জরিমানার অর্থ আদায় হলে তা সরাসরি পাবেন নির্যাতিতা স্ত্রী।
কী ঘটেছিল বাস্তবে?
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৯ নভেম্বর নৌশাদ আহমেদের সঙ্গে বিয়ে হয় রাজিয়া সুলতানা ওরফে গুড়িয়ার। ২১ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্যে তাঁদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটে। অভিযোগ ওঠে, নৌশাদ স্ত্রী ও সন্তানদের বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং একপর্যায়ে স্ত্রীর মুখে এসিড ছুড়ে মারার চেষ্টাও চালান!
এরপর ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজিয়াকে বেআইনিভাবে ‘ত্রিপল তালাক’ দিয়ে দেন নৌশাদ। এই ঘটনায় সুবিচারের আশায় ফুলওয়ারিশরীফ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজিয়া।
পুলিশি তদন্ত ও আদালতের কড়া পদক্ষেপ
ঘটনার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আদালতে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। বিচারে মোট ৩ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করেন জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (২৪) রাজীব রঞ্জন সহায়। শুনানি শেষে মুসলিম নারী (বিবাহ অধিকার সুরক্ষা) আইন, ২০১৯-এর ৪ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় নৌশাদকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাটনা জেলার ইতিহাসে এটিই প্রথম ‘ত্রিপল তালাক’ সংক্রান্ত মামলা, যেখানে অভিযুক্তকে কড়া শাস্তি দেওয়া হলো।
কী বলছে ভারতের ‘ত্রিপল তালাক’ আইন?
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ‘মুসলিম নারী (বিবাহ অধিকার সুরক্ষা) আইন’ অনুযায়ী, মুখে বলে, লিখে, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বা যেকোনো উপায়ে তাৎক্ষণিক ৩ তালাক দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী দোষী স্বামীর সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া ৫ ও ৬ নম্বর ধারায় নির্যাতিতা নারী ও তাঁর নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণ এবং হেফাজত সংক্রান্ত কড়া নিরাপত্তার আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই নজিরবিহীন রায় আবারও প্রমাণ করল যে, বিয়ের এতদিন পরেও মহিলাদের সম্মান ও অধিকার রক্ষায় আইনের হাত কতটা শক্ত।