বারাণসীতে রাজনৈতিক মহারণ! এমএলসি আসন দখল করতে আসরে খোদ যোগী, সমাজবাদীর দুর্গ রক্ষায় মরিয়া বিরোধীরা!

উত্তরপ্রদেশের বারাণসী বিভাগের স্নাতক এবং শিক্ষক বিধান পরিষদ (এমএলসি) আসন দুটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে। গত নির্বাচনে এই দুই আসনেই জয়লাভ করেছিল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। এবার সেই আসনগুলি নিজের দখলে রাখতে সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে শাসকদল বিজেপি। অন্যদিকে, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী দুর্গ রক্ষা করতে কোমর বেঁধে প্রচার শুরু করেছে এসপিও। ফলে এই দুই আসনে আগামী লড়াই যে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

যোগীর মাস্টারস্ট্রোক বারাণসীতে
বিজেপির পক্ষে এই লড়াই অত্যন্ত মর্যাদার। বিগত নির্বাচনে হারের গ্লানি মুছে এবার বারাণসীর শিক্ষক ও স্নাতক আসন দুটি পুনরুদ্ধার করতে আসরে নেমেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সম্প্রতি বারাণসীতে একটি বিশাল শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সম্মেলনে যোগ দিয়ে এসপি আমলের শিক্ষা ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য সরকারের আনা বিভিন্ন সুবিধা, ক্যাশলেস চিকিৎসা এবং নতুন পেনশন প্রকল্প সহ একাধিক জনমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিজেপির পক্ষে জোরদার হাওয়া তৈরি করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এসপি-র স্ট্র্যাটেজি ও বাড়ি বাড়ি প্রচার
বিজেপির এই আক্রমণাত্মক প্রচারের মোকাবিলা করতে সাংসদ বীরেন্দ্র সিংয়ের কাঁধে বড় দায়িত্ব দিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। জেলা ও মহানগর সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রচারের মূল হাতিয়ার করা হয়েছে পুরোনো পেনশন স্কিম (OPS), বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলিকে। এছাড়াও এসপি তাদের পরিচিত ‘पीडीএ’ (PDA – পিছড়ে, দলিত, সংখ্যালঘু) সমীকরণ এবং ৬৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগে সংরক্ষণ বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ও রাজনৈতিক তরজা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইয়ে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করেছেন স্নাতক আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুনীল সিং যাদব। এসপি-র অভিযোগ, এসপি প্রার্থী আশুতোষ সিনহার ভোট কাটতেই নাকি নেপথ্য থেকে সুনীল যাদবকে মদত দিচ্ছে বিজেপি। পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিমান প্রদর্শনী নিয়েও শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে সমাজবাদী পার্টি।

গত নির্বাচনে বারাণসী স্নাতক আসনে এসপি-র আশুতোষ সিনহা ৩,৮৫০ ভোটে বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিংকে হারিয়েছিলেন এবং শিক্ষক আসনেও লাল বিহারী যাদব জয়ী হয়েছিলেন। এখন দেখার বিষয়, বিজেপি কি তাদের পুরনো আসন ছিনিয়ে নিতে সফল হয়, নাকি সমাজবাদী পার্টি তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারে। বারাণসীর এই রাজনৈতিক লড়াই এখন সমগ্র উত্তরপ্রদেশের নজর কেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *