অজান্তেই সর্বস্বান্ত হতে পারেন! হোয়াটসঅ্যাপের এই মারাত্মক ফাঁদ থেকে বাঁচতে আজই বদলান এই দুটি সেটিংস।

সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতের ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত মেসেজিং কিংবা কলিং—আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। কিন্তু প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের এই মাধ্যমটিই এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। আপনার ফোনের স্ক্রিনে যদি হঠাৎ পাকিস্তান, ভিয়েতনাম বা অন্য কোনো অজানা দেশের কোড থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল বা ভিডিও কল আসে, তবে তা মারাত্মক বিপদের ঘণ্টা বাজাতে পারে। একটুখানি অসাবধানতা আপনার জীবনের সমস্ত জমানো অর্থ এক লহমায় ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।

সাইবার অপরাধীরা এখন সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে বা ফাঁদে ফেলতে হোয়াটসঅ্যাপের সাহায্য নিচ্ছে। অনেকেরই ধারণা, শুধু একটি অচেনা ফোন কল রিসিভ করলে বা না তুললে আর কী ক্ষতি হতে পারে! কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত ভয়ংকর। একটি সাধারণ অজানা কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার ফোনের লাইভ লোকেশন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্য লিক হয়ে যেতে পারে।

সাইবার ঠগদের নতুন ফাঁদ: ডিজিটাল অ্যারেস্ট
বর্তমানে প্রতারকরা ফোন করে নিজেদের পুলিশ অফিসার, সিবিআই (CBI) বা কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের আধিকারিক পরিচয় দেয়। এরপর তারা দাবি করে যে, আপনার নামে কোনো অবৈধ পার্সাল ধরা পড়েছে। একেই আজকের দিনে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে ফোনে ভয় দেখানো হয়, যতক্ষণ না ভুক্তভোগী পুরোপুরি আতঙ্কিত হয়ে লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে দেন।

তাছাড়া, কারিগরি দিক থেকেও অজানা নম্বর বা অচেনা ব্যক্তির কল রিসিভ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনি যখনই কোনো অচেনা কল রিসিভ করেন, তখন দুই ফোনের মধ্যে একটি পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) কানেকশন তৈরি হয়ে যায়। এই সংযোগের মাধ্যমে হ্যাকাররা খুব সহজেই আপনার আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) বা ইন্টারনেট লোকেশন ট্র্যাক করে নিতে পারে এবং আপনি সরাসরি তাদের নিশানায় চলে আসেন।

কীভাবে এই বিপদ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

এই ধরনের জালিয়াতি এবং অযাচিত ঝামেলা থেকে বাঁচতে হোয়াটসঅ্যাপের অন্দরেই অত্যন্ত কার্যকরী দুটি ফিচার রয়েছে, যা আজই চালু করা বাধ্যতামূলক:

১. অচেনা কলের রিং বন্ধ করুন (Silent Unknown Callers):
এই ফিচারটি অন করলে আপনার কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করা নেই এমন কোনো নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল এলে ফোনের রিং বাজবে না। অর্থাৎ কোনো স্ক্যামার বা অচেনা ব্যক্তি আপনাকে কল করলেও আপনার কাজে বা বিশ্রামে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

কীভাবে অন করবেন: হোয়াটসঅ্যাপ খুলে সেটিংস (Settings) মেনুতে যান। সেখান থেকে প্রাইভেসি (Privacy) সিলেক্ট করে কলস (Calls) অপশনে যান। এরপর ‘Silent Unknown Callers’ অপশনটি অন করে দিন। এর ফলে সমস্ত অচেনা কল শুধু আপনার কল ট্যাবেই জমা হবে, ফোনের রিং বাজবে না।

২. আইপি অ্যাড্রেস লুকিয়ে লোকেশন সুরক্ষিত রাখুন (Protect IP Address In Calls):
হ্যাকারদের ট্র্যাকিং হামলা থেকে বাঁচতে এই সেটিংটি অত্যন্ত জরুরি। এই ফিচারটি অন থাকলে হোয়াটসঅ্যাপের সমস্ত কল মেটার সুরক্ষিত সার্ভারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। ফলে সামনে থাকা ব্যক্তি কোনোভাবেই আপনার আসল আইপি অ্যাড্রেস বা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করতে পারবে না।

কীভাবে অন করবেন: সেটিংস থেকে প্রাইভেসিতে গিয়ে একদম নিচে থাকা অ্যাডভান্সড (Advanced) অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে থাকা ‘Protect IP Address In Calls’ টগলটি অন করে দিন।

সামান্য কিছু সতর্কতা এবং সঠিক সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমেই আপনি এবং আপনার পরিবার সাইবার অপরাধীদের এই বড় জাল থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারেন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *