ভারতের গরিব নয়, বিলাসবহুল ট্রেন দেখালেন ব্রিটিশ ভ্লগার! বন্দে ভারতের ছবি দেখে মুগ্ধ নেটদুনিয়া

বিদেশি পর্যটকরা ভারতে এলে সচরাচর সাধারণ বা জেনারেল কামরা কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের ভিডিও শুট করতেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু এই চিরাচরিত ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এক অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ট্রাভেল ভ্লগার মিয়া নিকোল (Mia Nicole)। সম্প্রতি নতুন দিল্লি থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চড়ে সরাসরি বারাণসী সফর করেছেন তিনি। ভারতের আধুনিক ও উন্নত রেল ব্যবস্থার সেই ঝলক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই তা হু হু করে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভ্লগারের সাফ কথা, তিনি বিশ্ববাসীকে দেখাতে চান যে ভারত কেবল সস্তা বা ভিড়ে ভরা ট্রেনই নয়, বরং অত্যাধুনিক ও আরামদায়ক রেলযাত্রার এক দুর্দান্ত উদাহরণ।

বন্দে ভারত দেখেই উচ্ছ্বসিত ভ্লগার:
নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর প্ল্যাটফর্মেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দেখতে পান মিয়া ও তাঁর বন্ধু। আধুনিক চেহারার ট্রেনটি দেখেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তাঁরা। ট্রেনের ভেতরে পা রাখার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, আরামদায়ক রিক্লাইনার সিট এবং নানা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যান নিকোল। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “সবাই শুধু ভারতের সস্তা ট্রেনগুলোই দেখায়, কিন্তু একটু দেখুন এই ট্রেনটি কতখানি চমৎকার!”

রেলওয়ের খাবারেও মন মজল:
শুধু ট্রেনেই নয়, যাত্রাপথে রেলওয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশন করা সুস্বাদু খাবার দেখে ভ্লগারের খুশির সীমা থাকে না। একের পর এক লোভনীয় খাবারের পদের পর শেষ পাতে আইসক্রিম হাতে পেয়ে তাঁর মুখে যে খুশির ঝিলিক দেখা যায়, তা ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। মিয়ার মতে, বন্দে ভারতের এই পুরো যাত্রাপত্রটি তাঁর সমস্ত পূর্বধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে।

কে এই মিয়া নিকোল?
ইংল্যান্ডের বাসিন্দা মিয়া নিকোল সাধারণ কোনো পর্যটক নন, তিনি একজন পেশাদার ট্রাভেল ভ্লগার। এর আগে আমেরিকা, চীন, জাপান, দক্ষিণ কো리아, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের ১৭টি দেশের বেশি ঘুরে ফেলেছেন তিনি। আর এবার ভারতের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য ও আধুনিক রূপকে নিজের ক্যামেরায় বন্দী করছেন তিনি।

তার এই ভাইরাল ভিডিওতে নেটিজেনরা কমেন্টের ঝড় তুলেছেন। কেউ মজার ছলে লিখেছেন, “অবশেষে এমন একজন বিদেশি ট্যুরিস্ট পাওয়া গেল যিনি ১০ ডলারের বেশি খরচ করার সাহস দেখিয়েছেন!” আবার কেউ কেউ ভারতের এই আধুনিক রেল পরিষেবাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ওই ব্রিটিশ ভ্লগারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *