রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের! ‘সেনাই আইন, সেনাই শাসন’, মুখের ওপর কড়া জবাব দিল্লির

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে পাকিস্তানেরই মন্তব্যকে অস্ত্র করে চরম কটাক্ষ করল ভারত। আইনের শাসন নিয়ে পাকিস্তানের খামখেয়ালি মন্তব্যের জেরে রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে সোজাসাপ্টা ভাষায় তুলোধোনা করেছে নয়াদিল্লি। আইনি বিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা চলাকালীন পাকিস্তানের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও কঠোর পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে ভারত।
‘সেনাবাহিনীই আইন, সেনাবাহিনীই শাসন’
পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর আর মিথিলি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যে দেশ নিজেদের সামরিক শাসকদের সাধারণ আদালতের নাগালের বাইরে রাখে, তাদের মুখে আইনের শাসনের কথা মানায় না। তিনি বলেন, “এমন একটি দেশের কাছ থেকে আইনের শাসনের বিষয়ে বক্তৃতা শোনাটা চরম পরিহাসের বিষয়, কারণ তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডই একে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে।” পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে আইনের শাসন রক্ষার বড়াই করলেও তাদের অভ্যন্তরে আদতে সেনার হুকুমই শেষ কথা বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাকিস্তানের ২৬তম সাংবিধানিক সংশোধনীকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ‘প্রকৃত আঘাত’ বলেও অভিহিত করেন ভারতীয় প্রতিনিধি।
ইমরান খানের কারাবাস ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তোপ
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ টেনে ভারত জানায়, ইসলামাবাদ অতীতে যে সমস্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে লালন-পালন করেছিল, আজ সেই ভস্মই তাদের নিজেদের দেশে ফিরে এসে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। এমনকি পাক নেতারাও এখন এই নির্মম সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাশাপাশি, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে মিথিলি বলেন, “যে শাসন ব্যবস্থায় কোনো সরকারকে তার নির্বাচিত মেয়াদ শেষ করতে দেওয়া হয় না এবং নিজ দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে খেয়ালখুশিমতো কারারুদ্ধ ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তা আইনের শাসনের উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।” জনগণের প্রতি সরকারের যে দায়বদ্ধতা থাকা উচিত, পাকিস্তান বারবার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে ভারত।