“পুলিশই ঠিক করুক কবে ডেট দেব!” আটকের পরেও সুর নরম না করে দিল্লি পুলিশকে চরম ডেডলাইন ককরোচ পার্টির

দিল্লির মাটিতে পা রাখতে না দিয়ে বিমান থেকেই আটক করা এবং পরবর্তীতে ছাড় পাওয়ার পরদিনই ফের সুর চড়াল প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দাবিতে এবার সরাসরি দিল্লি পুলিশকেই ডেডলাইন বেঁধে দিল সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার সকালে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোজা উপস্থিত হয় নতুন দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়। থানায় প্রবেশের মুখেই তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যন্তর-মন্তরই প্রতিবাদের মূল পীঠস্থান এবং সেখানেই তাঁরা আন্দোলন করবেন।
পুলিশের ওপরই ছাড় আন্দোলনের দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব
এদিন থানায় যাওয়ার আগে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানান, তাঁরা কোনো সংঘাত চান না, বরং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করতে বদ্ধপরিকর। সাধারণত পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলন বা বিক্ষোভের জন্য ১০ দিন আগে আবেদন করার নিয়ম থাকলেও, এবার সম্পূর্ণ উলটো পথে হেঁটে আন্দোলনের তারিখ ও সময় ঠিক করার বল ঠেলে দেওয়া হয়েছে পুলিশের কোর্টেই।
এই বিষয়ে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “আন্দোলনের তারিখের দাবি নিয়ে আমরা দিল্লি পুলিশের কাছে যাচ্ছি। পুলিশই আমাদের তারিখ ঠিক করে দিক।” অন্যদিকে, সৌরভ দাস হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। এতদিন পুলিশ বলত হাতে ১০ দিন সময় নিয়ে আসতে। এবার আমরা পুলিশের কাছ থেকেই সময় ও তারিখ চাইছি। তবে এর জন্য কোনো লম্বা সময় দেওয়া চলবে না, আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি।”
কী ঘটেছিল ঠিক এর আগে?
উল্লেখ্য, গত শনিবার দিল্লির মেগা বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বই থেকে বিমান চড়ে রাজধানীতে এসেছিলেন সিজেপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই বিমান থেকে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। রবিবার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলেও আন্দোলনের রাস্তা থেকে যে তাঁরা একচুলও সরে আসছেন না, তা এদিনের এই পুলিশি থানায় গিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট করে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।