পুজোর মুখে কলকাতায় ইডির মেগা রেড! টালিমঞ্জ, শরৎ বোস রোড সহ ৮ ঠিকানায় ঝটিকা অভিযান

উৎসবের আমেজে যখন সেজে উঠছে তিলোত্তমা কলকাতা, ঠিক তখনই শহরের একাধিক অভিজাত এলাকায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর্থিক প্রতারণা ও হাওলা বা টাকা পাচারের অভিযোগের তদন্তে নেমে সোমবার সকাল থেকে কলকাতার মোট আটটি জায়গায় একযোগে ঝটিকা তল্লাশি শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা। টালিগঞ্জ থেকে শুরু করে শরৎ বোস রোড—শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই মেগা অভিযানকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পূর্বের সূত্রের ভিত্তিতেই এই অভিযান
কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তল্লাশি অভিযানের মূল সূত্র লুকিয়ে রয়েছে এর আগের একটি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে। গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ তারিখে কলকাতার বিভিন্ন ঠিকানায় প্রথম দফার অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আজ এই নতুন দফার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ বা সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরবর্তীতে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংস্থার মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। সেই কালো টাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা সহ একাধিক লাভজনক ক্ষেত্রে লগ্নি করে সাদা করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই আর্থিক লেনদেনের মূল চক্রী কারা এবং সাধারণ মানুষের আমানত কোন কোন হাত ঘুরে কোথায় পাচার হয়েছে, তার নিখুঁত সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে জাল
গত সেপ্টেম্বরের সেই অভিযানে বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের আড়ালে চলা আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছিল ইডি। দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার দুই কর্তার বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কলকাতা ছাড়াও দিল্লি ও বেঙ্গালুরু সহ দেশের মোট ১৭টি জায়গায় যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল।

আজকের এই নতুন অভিযানে ঠিক কাদের বাড়িতে বা অফিসে তল্লাশি চলছে কিংবা নির্দিষ্ট কোন কোন সংস্থার নাম এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পুজো যখন দোরগোড়ায়, ঠিক সেই সময়ে ইডির এই ধারাবাহিক ও কড়া পদক্ষেপে বড়সড় কোনো দুর্নীতি চক্রের পর্দাফাঁস হতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *