ভারত-রাশিয়ার মেগা যুদ্ধমহড়া ‘ইন্দ্র ২০২৬’! কীসের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দেশের নৌসেনা?

দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও মজবুত করতে রাশিয়ার সুদূর পূর্বের শহর ভ্লাদিভোস্তকে পৌঁছে গেল ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সহ্যাদ্রি (INS Sahyadri)। ভারত ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী যৌথ মহড়া ‘ইন্দ্র ২০২৬’-এ অংশ নিতেই ১০ অক্টোবর ভ্লাদিভোস্তকের বন্দরে নোঙর করেছে এই ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ। আগামী ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এই যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
সামরিক সূত্রে খবর, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়াটি মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে ভ্লাদিভোস্তক বন্দরে দুই দেশের নৌসেনা আধিকারিক ও কর্মীরা বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় তথা মূল সমুদ্রভিত্তিক পর্ব। এই ধাপে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজগুলি একসঙ্গে সমুদ্র বুকে যৌথ সামরিক অভিযান চালাবে। এর ফলে একে অপরের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার দক্ষতা আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মহড়ার মূল লক্ষ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। এই যৌথ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও পোক্ত করা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং যৌথ অভিযান চালানোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দুই দেশের নৌসেনারা পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সরকারের ‘মহাসাগর’ ভাবনার সঙ্গেই এই ধরনের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সহযোগিতার যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের পর ‘ইন্দ্র ২০২৬’ মহড়া দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতীয় নৌবাহিনীর এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।