বল হাতে নামতেই আগুন ঝরালেন সামি! কল্যাণীর বাইশ গজে দিল্লিকে গুঁড়িয়ে রঞ্জিতে বাংলার গর্জন

দীর্ঘদিন পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন মহম্মদ সামি। কল্যাণী বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির মহারণে বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন টিম ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ এই স্পিডস্টার। সামির আগুনে পেস ও নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না দিল্লির ব্যাটাররা। প্রথম দিনের শেষেই মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে গেল দিল্লির প্রথম ইনিংস।
চার উইকেট তুলে নিয়ে একাই দিল্লির মিডল ও লোয়ার অর্ডারের কোমর ভেঙে দেন সামি। তাঁর এই দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিল—ফর্ম বা ধার, কোনোটিই এতটুকু মরচে পড়েনি বাংলার এই ঘরের ছেলের।
কল্যাণীর পিচে সামি-ঝড়
টসে জিতে দিল্লিকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলা শিবির। মেঘলা আবহাওয়া আর কল্যাণীর পিচের আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণ শানান মহম্মদ সামি ও মুকেশ কুমার।
-
শুরুতেই ধাক্কা: দিল্লির ওপেনিং জুটিকে শুরুতেই চাপে ফেলেন বাংলার পেসাররা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় দিল্লি।
-
সামির বিধ্বংসী স্পেল: পুরনো বলে রিভার্স সুইং আদায় করে নিয়ে দিল্লির সেট ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরান সামি। একাই তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট।
-
মুকেশ-সুরজের যোগ্য সঙ্গ: সামির পাশাপাশি দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেন মুকেশ কুমার ও সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালও। তাঁদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে মাত্র ২৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় দিল্লির ইনিংস।
লড়াই চালালেন কেবল দিল্লির যশ ধুল
বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও দিল্লির হয়ে একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান তরুণ ব্যাটার যশ ধুল। তাঁর লড়াকু অর্ধশতরানের সুবাদেই দিল্লি ২০০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয়। তবে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ না পাওয়ায় বড় স্কোরের পথে এগোতে পারেনি দল।
ড্রাইভিং সিটে বাংলা
প্রথম দিনেই প্রতিপক্ষকে আড়াইশোর নিচে আটকে রেখে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিল অনুষ্টুপ মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বাংলা দল। দিনের বাকি সময়ে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিতে পারলেই প্রথম ইনিংসের বড় লিড নেওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলার সামনে।
সামির এমন বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তন ভারতীয় দলের নির্বাচকদের জন্যও অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বার্তা দিল। রঞ্জি ট্রফির প্রথম দিনেই বাংলার বোলারদের এই দাপুটে পারফরম্যান্স কল্যাণীর মাঠে উৎসবের মেজাজ তৈরি করেছে।