দিল্লির রাজপথে তুমুল ধস্তাধস্তি! রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গে বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলল পুলিশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজধানী দিল্লিতে চলমান প্রতিবাদের আগুন এবার আছড়ে পড়ল রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ মেট্রো স্টেশন চত্বরে। রবিবার সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে চরম হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ধরপাকড় শুরু করে দিল্লি পুলিশ। মুহূর্তে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
যন্তরমন্তরে যাওয়ার আগেই রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গের কাছাকাছি এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসেনা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টেনেহিঁচড়ে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার ধস্তাধস্তি
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বহু ছাত্র-যুব কর্মী ও আন্দোলনকারী রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এলাকায় জড়ো হয়ে যন্তরমন্তরের উদ্দেশে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এলাকায় আগেই কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছিল।
-
ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা: বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে ব্যারিকেড ঠেলে এগোনোর চেষ্টা করলেই পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়।
-
টেনেহিঁচড়ে আটক: নিষেধ অমান্য করে এগোনোর চেষ্টা করায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের জামাকাপড় ও হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে একে একে পুলিশের গাড়িতে তোলে।
-
রাজপথ কাঁপিয়ে স্লোগান: আটকের মুখেও পিছু না হটে পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকেই লাগাতার সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
রাজধানীতে জারি কড়া বিধিনিষেধ
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আগেই জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) কড়া ধারা, যার জেরে কোনও ধরনের অনুমতিহীন মিছিল বা পথসভা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—পুলিশ প্রশাসন দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষোভ কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না। রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গে এই সংঘাতের ঘটনার জেরে জাতীয় রাজধানীতে উত্তেজনা আরও একধাপ বেড়ে গেল।