“মমতা এখন আর জুজু নন!” সংখ্যালঘুদের বড় ভোটব্যাঙ্কে বড় ধাক্কা, শুভেন্দুর আহ্বানে কি উলটপুরাণ রাজ্যে?

বাংলার যে কোনো নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট সর্বদা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলাফল ও ট্রেন্ড বলছে, সংখ্যালঘুদের মন আর আগের মতো তৃণমূলের ঝুলিতে নেই, বরং উল্টোটাই ঘটছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বার্তায় সাড়া দিয়ে গেরুয়া শিবিরের ওপরেই সংখ্যালঘুরা আস্থা রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি কংগ্রেসের ঝুলিতেও কিছু ভোট গিয়েছে।
সংখ্যালঘু বুথগুলিতে তৃণমূলের ভরাডুবি:
উপনির্বাচনের আগে খোদ শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন যে, এটি সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং তাঁদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হওয়া উচিত। আর সেই আহ্বানেই যে কাজ হয়েছে, তা উপনির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট। সংখ্যালঘু বুথগুলিতে তৃণমূলের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। যেখানে কংগ্রেস ৭০ বা ১০০টি করে ভোট পেয়েছে, সেখানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে মাত্র ৮ থেকে ১০টি, এমনকি কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩টি করে ভোট জুটেছে।
নন্দীগ্রামে অভাবনীয় ফল ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়া:
নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে অপ্রত্যাশিতভাবে বিজেপি ভালো ফল করেছে। এক সংখ্যালঘু মহিলা এই প্রসঙ্গে জানান, “আর বিরোধী বলে লাফালাফি করুক না কেন! কংগ্রেস বলে আর কিছু থাকবে না, আর তৃণমূল বলে তো কিছুই নেই। আমরা দাদার কথায় ভরসা রেখেছি।” তাঁর মতে, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় বা জুজু হিসেবে দেখে এলেও এখন মানুষ ঠগ-বেইমানদের আসল রূপ চিনে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই ট্রেন্ডের ইঙ্গিত মিলেছিল। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়েছিল বিজেপি। আর এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনেও ঠিক একই ছবি ধরা পড়ল, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।