আমেরিকায় বড় ধাক্কা টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর! গ্রিন কার্ড প্রোগ্রাম থেকে ৮ টেক জায়ান্টকে সাসপেন্ড করল ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন মুলুকে কর্মী নিয়োগ এবং ভিসা নীতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অঙ্গ হিসেবে ইনফোসিস, উইপ্রো, টাটা (TCS/Tata), এইচসিএল-এর মতো দেশীয় সংস্থাসহ মোট আটটি প্রথম সারির আইটি এবং টেক জায়ান্ট সংস্থাকে ‘পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ (Permanent Labor Certification Program) থেকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে এই বড় পদক্ষেপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।
কোন কোন সংস্থায় পড়েছে কোপ?
ইনফোসিস ও উইপ্রোর পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে টাটা, এইচসিএল টেকের মতো ভারতীয় সংস্থাও। পাশাপাশি ভারতে বিরাট উপস্থিতি রয়েছে এমন মার্কিন ও বহুজাতিক সংস্থা— যেমন কগনিজেন্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবিকেও এই সাসপেনশনের আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-ফ্রড টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, লেবার সেক্রেটারি কিথ সন্ডারলিং এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্কো এই যৌথ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন।
লেবার সেক্রেটারি কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে এই সংস্থাগুলি প্রায় ৩০ লক্ষ বিদেশি কর্মীর আবেদন করেছে। এর মধ্যে আড়াই লক্ষেরও বেশি H-1B ভিসা এবং ১ লক্ষের বেশি পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন অনুমোদন পেয়েছে। তবে বর্তমানে এই প্রক্রিয়াগুলিতে অনিয়ম ও ফেডালের তদন্তের জেরে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেয়ার বাজারে ও ব্যবসায় এর প্রভাব:
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই ইউএস স্টক মার্কেটে ধাক্কা খেয়েছে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির আমেরিকান ডিপোজিটরি রসিদ বা ADR। ইনফোসিস ও উইপ্রোর এডিআর প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আইটি খাতের মোট আয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশই আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত বছর ভারতীয়দের জন্য প্রায় ৫৭,০০০ নতুন H-1B ভিসা অনুমোদিত হয়েছিল, যা আগের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম। এছাড়া গত বছরই নতুন আবেদনকারীদের জন্য বার্ষিক ভিসা ফি বাড়িয়ে ১ লক্ষ ডলার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকার এই নজিরবিহীন কড়াকড়ির জেরে আজ ভারতীয় শেয়ার বাজার খুলতেই টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো, টেক মহিন্দ্রা এবং এইচসিএল টেকের শেয়ারগুলি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজরদারির কেন্দ্রে থাকবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।