“নবান্নের মাথা দিয়ে গঙ্গার জল বইবে, তবুও…” ভোটের জয়ের মাঝেই কোন বাম নেত্রীর নাম নিলেন বিজেপি প্রার্থী?

উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন রেজিনগরের (Rejinagar) বিজেপি প্রার্থী শাখাভ সরকার। একদিকে যখন ভোটগণনা এগোতেই বুথে বুথে পদ্ম ফুটতে শুরু করেছে এবং ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও বিজেপি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে, তখন উল্লাসের আবহে প্রার্থীর মুখে উঠে এল এক প্রবীণ বাম নেত্রীর নাম। শাখাভ সরকারের এই মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

কী বলেছেন বিজেপি প্রার্থী?
এদিন সকাল থেকেই রেজিনগরের ট্রেন্ড ছিল সম্পূর্ণভাবে পদ্ম শিবিরের অনুকূলে। রাউন্ড যত এগোচ্ছিল, ততই মার্জিন বাড়িয়ে ব্যবধান চওড়া করছিলেন বিজেপি প্রার্থী শাখাভ সরকার। এমন সাফল্যের আবহে উচ্ছ্বসিত শাখাভ বলেন, “অসাধারণ ফল হচ্ছে। আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল। নন্দরানি আমার আদর্শ। নবান্নের মাথার উপর দিয়ে গঙ্গার জল বইবে, মহাকরণে আকাশ ভেঙে পড়বে, কিন্তু নন্দরানি ডলকে এক্সিট করতে পারব না— এটা হতে পারে না।”

কে এই নন্দরানি ডল?
বাংলার রাজনীতিতে রেকর্ড ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম হল নন্দরানি ডল। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার যুক্তফ্রন্টের আমল থেকেই তিনি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৬৭ সালে মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল (Ghatal) আসন থেকে যুক্তফ্রন্টের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সে সময় তাঁর বয়স ২৫ বছরের কম থাকায় বয়স বাড়িয়ে ভোটে লড়তে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তী সময়ে পরপর তিনবার ঘাটাল থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর সিপিএমের আমলে কেশপুর (Keshpur) থেকেও তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হন নন্দরানি।

২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শেষবার কেশপুর থেকে লড়ে ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এই বাম নেত্রী। সে সময় তাঁকে রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার মন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁর সেই বিপুল ভোটপ্রাপ্তি নিয়ে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবুও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে তাঁকে আর টিকিট দেওয়া হয়নি। একসময়ে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার মহিলা সমিতির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রীর রাজনৈতিক আদর্শই এখন উঠে এল জয়ের দিনে বিজেপির প্রার্থীর মুখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *