স্ট্যাচু অফ ইউনিটির প্যারেডে মহাবিপত্তি! একসঙ্গে ৮৭ জন জওয়ান অসুস্থ, এক জওয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য

গুজরাটের কেভাডিয়ায় অবস্থিত স্ট্যাচু অফ ইউনিটির কাছে আসন্ন একতা দিবসের প্যারেডে অংশ নিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএসএফ (BSF), সিআরপিএফ (CRPF) এবং আইটিবিপি (ITBP)-র মোট ৮৭ জন জওয়ান। গত ১০ দিনে তাঁদের গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর শিবির জুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
কোন কোন রাজ্য থেকে এসেছিলেন জওয়ানরা?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিসগড় সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা গুজরাটে জড়ো হয়েছিলেন। একতা দিবসের প্যারেডের কঠোর মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁদের অনেকের মধ্যেই জ্বর, ডেঙ্গি এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এর পরই তাঁদের দ্রুত গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পনশেরিয়া জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৩৭ জন জওয়ানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটছে। তবে সকলের ডেঙ্গি পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
কীভাবে মৃত্যু হল এক জওয়ানের?
এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক দিকটি হলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক জওয়ানের হঠাৎ মৃত্যু। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জওয়ান হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথার কথা জানান। চিকিৎসকেরা তড়িঘড়ি ইসিজি সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে আইসিইউতে (ICU) স্থানান্তরিত করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, জওয়ানটির শরীর খারাপ ও জ্বর থাকা সত্ত্বেও তিনি কঠোর শরীরচর্চা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিতভাবে জানতে চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের বিশেষ পদক্ষেপ:
জওয়ানদের এই ব্যাপক অসুস্থতার খবর পেয়ে স্বয়ং গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পনশেরিয়া হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে চিকিৎসার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেন। অসুস্থ জওয়ানদের পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ জল, পুষ্টিকর খাবার, তাজা ফল ও ফলের রস সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে রক্ত ও প্লেটলেটের জোগান নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
জওয়ানদের থাকার জায়গায় মশার উপদ্রব ও বংশবিস্তার কঠোরভাবে রুখতে দিনে দু’বার ফগিং এবং কীটনাশক স্প্রে করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দল পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।