রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ না মিললে বড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি! ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ফুঁসছে ইন্ডিয়া জোট

বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং বড়োসড়ো ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করতে চলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। শুক্রবার দিল্লির সংবিধান সদনের (Samvidhan Sadan) সেন্ট্রাল হলে বিরোধী সাংসদদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে পরবর্তী রণকৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েও এখনও পর্যন্ত সদুত্তর না মেলায় বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দাবি না মানলে সমস্ত বিকল্প পথই খোলা রাখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও বিরোধীদের ক্ষোভ:
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি ভেনুগ্রোপাল জানিয়েছেন, গত ২ অক্টোবরই প্রথম রাষ্ট্রপতির দপ্তরে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির ভবন থেকে প্রতিনিধি দলের নাম চাওয়া হলে গত ৫ অক্টোবর ৭, ৮ বা ৯ অক্টোবর সময় চেয়ে ফের আবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না মেলায় বিরোধীদের অন্দরে ক্ষোভ আরও দানা বেঁধেছে। আজকের বৈঠকে পরবর্তী বিক্ষোভের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। জানা যাচ্ছে, সেবা তীর্থ, রাষ্ট্রপতি ভবন, উপরাষ্ট্রপতির বাসভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও আগামী দিনে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন বিরোধী সাংসদরা।

আন্দোলনের পটভূমি ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান:
গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীজুড়ে বিরোধী দলগুলির লাগাতার প্রতিবাদ চলছে। গত বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধীজির সমাধি স্থল রাজঘাটে ধর্নায় বসে বিজেপি নেতৃত্ব ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী নেতারা। এমনকি রাহুল গান্ধীসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে পুলিশের হাতে আটকও হতে হয়। মূলত ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, বিগত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্ন মত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তাদের সমস্ত নির্দেশই আইনগত ও বিধিবদ্ধ পদ্ধতি মেনেই জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা পিছু হটতে নারাজ। আজকের বৈঠকে ঠিক কোন পথে আন্দোলন এগোবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *