বারাণসীতে বিশাল চমক রাজ্যের! ৮০ কোটি ব্যয়ে কোচবিহার কালীবাড়িতে তৈরি হচ্ছে ৭ তলা ‘বঙ্গ ভবন’

পবিত্র বারাণসী ধামে যাওয়া বাঙালি তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। বারাণসীর ঐতিহাসিক সোনারপুরার কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বরে এক বিশাল আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্যটন দফতর। ঐতিহাসিক কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের প্রায় ২ একর জমিতে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ হবে একটি সুবিশাল সাততলা ভবন। এর পাশাপাশি পুরো এলাকায় ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোরও আধুনিকীকরণ করা হবে।
রাজকীয় সুবিধা ও পরিকাঠামো
রাজ্য পর্যটন দফতরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য থাকছে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা:
-
ঘর ও সু্যট: সাততলা ভবনে থাকবে মোট ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর এবং ১০টি অতি-বিলাসবহুল (লক্সারি) স্যুট।
-
অন্যান্য সুবিধা: উন্নতমানের রেস্তরাঁ, সুবিশাল ব্যাঙ্কোয়েট হল, আধুনিক শরীরচর্চা কেন্দ্র (জিম), সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা।
-
ঐতিহ্য সংরক্ষণ: ঐতিহাসিক ‘হাওয়া মহল’-কে সংস্কার করে রাজকীয় আবাসনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রাচীন কালীমন্দির এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপত্যের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূল উদ্দেশ্য এবং যৌথ পরিদর্শন
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বারাণসীর বুকে বাংলার সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিকে তুলে ধরা। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিয়ত বারাণসীতে যাওয়া হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সুলভে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি ও জমির স্থিতি খতিয়ে দেখতে বারাণসী সফর করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসাল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পর্যটন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বারাণসী জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা দেবোত্তর ট্রাস্টের জমি ও ঐতিহাসিক মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন।
পরবর্তীকালে রাজ্যের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও বারাণসীর ওই ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও পরিকাঠামোগত সম্ভাবনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। সব অনুমোদন পেলেই খুব দ্রুত এই ৮০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।