অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ৮ মাসের মধ্যেই চলে গেলেন নানা পাটেকর! নেপথ্যে ৫ দশকের গোপন সম্পর্কের গল্প

বলিউডের ‘ক্রান্তিবীর’ নানা পাটেকরের আচমকা প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা দেশ। বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। কিন্তু তাঁর এই চলে যাওয়ার পেছনে যেন থেকে গেল এক গভীর বিষাদ ও অটুট বন্ধুত্বের করুণ আখ্যান। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই, মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে নিজের পরম বন্ধু অজিতের পথ ধরেই চিরবিদায় নিলেন নানা পাটেকরও।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতি বা বিনোদন জগতের আলোঝলমলে দুনিয়ার অলক্ষ্যেই গড়ে উঠেছিল তাঁদের দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব। চটকদার প্রচারমাধ্যম বা ক্যামেরার নজর থেকে নিজেদের সম্পর্ককে চিরকাল দূরে রেখেছিলেন দুজনে।

আঠারো বছর বয়সের সেই প্রথম দেখা

নানা পাটেকর নিজে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিকাতর হয়ে জানিয়েছিলেন, অজিত পাওয়ার তখন ১৮-১৯ বছরের এক তরুণ, আর নানার বয়স প্রায় ২৫। অজিত তখনও মহারাষ্ট্র রাজনীতির প্রতাপশালী নেতা হয়ে ওঠেননি, আর নানা পাটেকরকেও চিনত না বলিউড। একদম নীচুতলার রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করার সময়েই বারামতীতে তাঁদের প্রথম দেখা ও পরিচয়।

পরবর্তী সময়ে অজিত পাওয়ার নিজেকে রাজনীতির শীর্ষে নিয়ে গেলেও এবং নানা পাটেকর দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা হয়ে উঠলেও, দুজনের সম্পর্কের বাঁধন একটুও আলগা হয়নি। বারামতীতে নানা গেলেই তাঁর সব রকম খেয়াল রাখা ও বন্দোবস্তের দায়িত্ব থাকত অজিতের ওপর। রাজনীতিতে ‘অজিত দাদা’ নামে পরিচিত নেতাকে স্নেহের ছোট ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন নানা পাটেকর, ডাকতেন ‘দাদা’ বলে।

“একজন বন্ধু চলে গেলেও বন্ধুত্ব শেষ হয় না”

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যখন মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার মারা যান, তখন চরম ভেঙে পড়েছিলেন নানা পাটেকর। মারাঠি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধু অজিতের স্মরণসভায় উপস্থিত থেকেও ব্যাকুল আবেগে এক ফোঁটাও বক্তব্য রাখতে পারেননি তিনি; কেবল ছবিতে মালা পরিয়ে নিঃশব্দে মঞ্চ ছেড়েছিলেন।

পরে অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়ে এসেছিলেন এবং অজিতের অপূরণীয় কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অজিতের মৃত্যুর পর এক সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, “অজিত আমার ছোট ভাইয়ের মতো ছিল। ৫০ বছর অনেকটা লম্বা সময়, অজিতকে খুব মিস করব। তবে আমি বিশ্বাস করি, একজন বন্ধু চলে গেলেও বন্ধুত্ব কখনও শেষ হয়ে যায় না। প্রচারের আলোয় বন্ধুত্ব দেখানো আমার পছন্দ নয়।”

এমনকি নানা পাটেকরের ছেলে মলহার পাটেকর তাঁদের ফার্মহাউসে তোলা বাবা ও অজিত পাওয়ারের একটি পুরোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লিখেছিলেন— অজিত পাওয়ার তাঁদের পরিবারেরই একজন সদস্যের মতো ছিলেন।

পাহাড়ঘেরা এক সাধারণ ফ্ল্যাটে সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত নানা পাটেকরের জীবনের এই অমলিন বন্ধুত্বের টান যেন সত্যিই বিরল। প্রিয় বন্ধুর পথ ধরে চিরতরে বিদায় নিয়ে প্রবীণ এই অভিনেতা আবারও প্রমাণ করে গেলেন— প্রকৃত বন্ধুত্ব চিরন্তন, মৃত্যুর ওপারেও থেকে যায় তার রেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *