দুধ না বিষ? শান্তিপুরে দুধ খেয়ে একের পর এক শিশু গুরুতর অসুস্থ! আসল সত্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড়!

গ্লাসভর্তি যে দুধ সন্তানকে পুষ্টির আশায় খাইয়ে দিচ্ছেন মায়েরা, তাতেই কি লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক বিষ? নদিয়ার শান্তিপুরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় এলাকা থেকে কেনা দুগ্ধজাত পণ্য ও কাঁচা দুধ খেয়ে একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় দুধে মারাত্মক কেমিক্যাল ও কৃত্রিম উপাদান মিশিয়ে ভেজাল কারবার চালাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
কীভাবে সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের নির্দিষ্ট কিছু গোয়ালা ও দুগ্ধ বিক্রেতার কাছ থেকে আনা দুধ খেয়ে হঠাৎ করেই শিশুরা বমি, পেট ব্যথা এবং মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বেশ কয়েকজন শিশুকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, দুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান বা পাউডার মেলানোর ফলেই এই বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
“শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে দোষী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” — সরব স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসন ও খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের বড় পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতিমধ্যেই নদিয়া জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।
-
নমুনা সংগ্রহ: যে সমস্ত দুগ্ধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে, তাঁদের থেকে দুধের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার (Lab Testing) জন্য পাঠানো হয়েছে।
-
কড়া হুশিয়ারি: খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, দুধে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভেজাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিলসহ জামিন অযোগ্য ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উৎসবের আবহেই এমন স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ খবর প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দুগ্ধজাত সামগ্রী কেনার আগে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।