দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা? নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের আগেই চরম তৎপরতা পুলিশের!

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। আগামী ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকে এক বড় আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও পরিকল্পনা দিল্লি পুলিশকে জানানো হয়েছে। আর এর পরেই যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলনের সময় ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্যামেরা (FRC) ব্যবহার করে বেশ কিছু দাগী অপরাধীকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। এবারও নতুনদিল্লির একাধিক সংবেদনশীল ও হটস্পটে সেই একই প্রযুক্তির এফআরসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। পুলিশের খাতায় নাম থাকা প্রায় ২,৮৭৩ জন অভিযুক্তকে কোনোভাবেই এই আসন্ন আন্দোলনে যোগ দিতে দেওয়া হবে না বলে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে চিহ্নিত হওয়া অভিযুক্তদের দ্রুত খুঁজে বের করে আটক করতে। তাঁরা যে যে এলাকায় বসবাস করেন, সেখানেও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনে ইচ্ছাকৃতভাবে গণ্ডগোল পাকাতে পারে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে নজরে রাখা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট এবং স্থানীয় থানাগুলির এসএইচও-দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ওপর যেন কড়া নজরদারি চালানো হয়।

পুলিশের খাতায় জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের তালিকায় এমন অনেকে রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। এর মধ্যে প্রায় ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি এবং পকসো (POCSO) আইনের মতো কড়া ধারায় মামলা ঝুলছে। এই তালিকাটিতে ১০১ জন খুনের আসামি রয়েছেন (যাঁদের মধ্যে ৪২ জনের বিরুদ্ধে একাধিক এবং ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে), পাশাপাশি ৬২ জন রয়েছে খুনের চেষ্টার মামলার অভিযুক্ত। এছাড়া ৬১ জন ধর্ষণের অভিযুক্ত (৮ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা), ৬ জন পকসো আইন এবং ২৫ জন যৌন নিগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত। এর পাশাপাশি ২৮৪ জন ডাকাতি, ২২৯ জন বেআইনি অস্ত্র আইন এবং ১৯ জন অপহরণের গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত বলে জানা গিয়েছে। আন্দোলনের নামে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনোভাবেই অবনতি না হয়, সেদিকেই এখন সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *